ত্বকে কালো দাগ দূর করবেন যেভাবে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেকের মুখ, হাত, কাঁধ ও পিঠের মতো শরীরের খোলা অংশে ছোট ছোট কালচে দাগ দেখা দেয়। এসব দাগকে বয়সের দাগ, সানস্পট বা লিভার স্পট বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এগুলো সোলার লেন্টিজিনেস নামে পরিচিত। সাধারণত দীর্ঘদিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকার কারণে ত্বকে এসব দাগ তৈরি হয়।
বয়সের দাগ সাধারণত সমতল ও ডিম্বাকৃতির হয়। এগুলোর রং হালকা বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি বা কালচে হতে পারে। আকারে ছোট ফ্রেকলসের মতো দাগ থেকে শুরু করে প্রায় ১৩ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কখনো একাধিক দাগ একসঙ্গে জমা হয়ে ত্বকে ছোপ ছোপ ভাব তৈরি করে। হাতের উপরিভাগ, পায়ের ওপরের অংশ, মুখ, কাঁধ ও পিঠের ওপরের দিকে এসব দাগ বেশি দেখা যায়।
৫০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের মধ্যে বয়সের দাগ বেশি দেখা গেলেও কম বয়সিরাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে যাদের ত্বক সহজে রোদে পুড়ে যায় এবং যারা দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকেন, তাদের ঝুঁকি বেশি। শিশুদের ত্বকে দেখা দেওয়া ফ্রেকলসের মতো এসব দাগ সূর্যের আলো এড়িয়ে চললে সাধারণত মিলিয়ে যায় না।
বয়সের দাগ কেন হয়
ত্বকের রং নির্ধারণ করে মেলানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন সূর্যের আলোতে থাকার ফলে ত্বকের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মেলানিন জমা হতে পারে বা অতিরিক্ত উৎপন্ন হতে পারে। এ থেকেই বয়সের দাগ দেখা দেয়। বাণিজ্যিক ট্যানিং ল্যাম্প ও ট্যানিং বেড ব্যবহার করলেও এ ধরনের দাগ তৈরি হতে পারে।
বয়সের দাগ সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে দেখতে ত্বকের ক্যানসারের কিছু লক্ষণের মতো হওয়ায় সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো দাগ কালো হয়ে গেলে, আকারে বড় হলে, সীমানা অসমান হলে, একাধিক রঙ দেখা দিলে কিংবা রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নতুন কোনো দাগ দেখা দিলেও তা পরীক্ষা করানো ভালো। এসব পরিবর্তন মেলানোমা নামের গুরুতর ত্বকের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
বয়সের দাগ প্রতিরোধে সূর্যের আলো থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বেশি তীব্র থাকে। তাই সম্ভব হলে এ সময়ে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
বাইরে যাওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে কমপক্ষে এসপিএফ ৩০ যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর এবং সাঁতার কাটার বা ঘামার পর আবার সানস্ক্রিন লাগান।
এ ছাড়া হাত-পা ঢেকে রাখে এমন পোশাক ও চওড়া কিনারার টুপি ব্যবহার করুন। অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এমন ইউপিএফ ৪০ থেকে ৫০ মানের পোশাকও বেছে নিতে পারেন।
বয়সের দাগ সৌন্দর্যগত কারণে হালকা করা বা অপসারণ করা সম্ভব। তবে আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, দাগটি অন্য কোনো রোগের লক্ষণ নয়।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক

-6ada1998501c6.jpg)