আয়রন ঘাটতি কি সত্যিই মুখ দেখে বোঝা যায়? লক্ষণগুলো জানুন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে বর্তমানে স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা নিয়ে নানা ধরনের ট্রেন্ড দেখা যায়। এর মধ্যে ইদানীং বেশ আলোচিত হচ্ছে ‘ফেরিটিন ফেস’ নামক একটি ট্রেন্ড। এই ট্রেন্ড অনুযায়ী, চোখের নিচে কালো দাগ, ফ্যাকাশে ত্বক ও চুল পড়া নাকি শরীরে আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ!
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলো দেখে শরীরের আয়রন বা ফেরিটিনের মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
মূলত শরীরে আয়রনের মাত্রা কমে গেলেই এই লক্ষণগুলো দেখা দেবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা নেই। কারণ এই ধরনের সমস্যার পেছনে আরও নানা কারণ থাকতে পারে।
ফেরিটিন আসলে কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ফেরিটিন হলো এমন একটি প্রোটিন, যা মানবদেহে আয়রন জমিয়ে বা সঞ্চয় করে রাখতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরের লোহিত রক্তকণিকায় ‘হিমোগ্লোবিন’ নামক যে প্রোটিন থাকে, তা সারা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে। আর এই হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য আয়রন অত্যন্ত জরুরি।
শরীরের আয়রনের সঞ্চয় যখন কমতে শুরু করে, তখন দেখা দিতে পারে আয়রনের ঘাটতি। আর এই ঘাটতি যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়, তবে তা ‘আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া’ বা রক্তস্বল্পতার কারণ হতে পারে।
লক্ষণগুলো এবং এর পেছনের অন্যান্য কারণ:
ফ্যাকাশে ত্বক: আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়ার কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমলে ত্বক ফ্যাকাশে হতে পারে। তবে ত্বকের রঙ বা সতেজতা নষ্ট হওয়ার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। কেবল মুখ দেখে আয়রনের ঘাটতি নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
চুল পড়া: অনেকের আয়রনের ঘাটতি হলে চুল পড়তে পারে। তবে এর একমাত্র কারণ আয়রন স্বল্পতা নয়। মানসিক চাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাবের কারণেও চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে বা অতিরিক্ত ঝরতে পারে।
নখের দুর্বলতা ও মুখের কোণে ক্ষত: আয়রনের অভাবে নখ দুর্বল ও ভেঙে যেতে পারে। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে নখ চামচের মতো বাঁকাও হয়ে যেতে পারে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘কোয়লনিকিয়া’ বলা হয়। এ ছাড়া মুখের কোণে ফাটল বা ক্ষত (অ্যাঙ্গুলার কেইলাইটিস) পুষ্টির ঘাটতির কারণে হতে পারে। তবে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা বিভিন্ন ত্বকের সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে।
চোখের নিচের কালো দাগ: অ্যানিমিয়ার ফলে মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলে কারো কারো চোখের নিচের কালো দাগ বেশি স্পষ্ট হতে পারে। তবে এটি আয়রন কম থাকার নির্ভরযোগ্য কোনো লক্ষণ নয়। জিনগত কারণ, বয়স বাড়া, অপর্যাপ্ত ঘুম, অ্যালার্জি কিংবা চোখের আশপাশের ত্বকের স্বাভাবিক গঠনের কারণেও কালো দাগ হতে পারে।
আয়রনের ঘাটতির আসল লক্ষণগুলো কী কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা
শ্বাসকষ্ট হওয়া
হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া
মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরানো
মনোযোগে সমস্যা হওয়া
ফ্যাকাশে ত্বক
চুল পড়া
দুর্বল ও ভঙ্গুর নখ
অবশ্য আয়রনের ঘাটতির প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না।
করণীয় কী?
রক্ত পরীক্ষা আবশ্যক: শরীরে আয়রনের সঠিক মাত্রা জানতে চিকিৎসকরা সাধারণত ‘ফেরিটিন ব্লাড টেস্ট’ এবং হিমোগ্লোবিনসহ অন্যান্য রক্তকণিকা পরীক্ষার জন্য ‘সিবিসি’ করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
নিজে নিজে চিকিৎসা থেকে বিরত থাকুন: সোশ্যাল মিডিয়ার লক্ষণ দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়।
বিনা পরামর্শে আয়রন সাপ্লিমেন্ট নয়: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে আয়রন ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যদি আপনার শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডে বিভ্রান্ত না হয়ে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান।

