Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

পরীক্ষার ফলই কি জীবনের শেষ কথা, নাকি নতুন শুরুর সুযোগ?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

পরীক্ষার ফলই কি জীবনের শেষ কথা, নাকি নতুন শুরুর সুযোগ?

প্রতীকী ছবি।

Advertisement

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশ করা হয়েছে। এই পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনটি একেক জনের কাছে নিয়ে আসে একেক বার্তা। 

একদল শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার যখন জিপিএ-৫ পাওয়ার উল্লাসে মেতে ওঠে, তখন ঠিক উলটো চিত্রও দেখা যায়। আশানুরূপ ফল না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ব্যর্থ, অযোগ্য কিংবা সবার চেয়ে পিছিয়ে পড়া মনে করতে শুরু করে। 

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১১৩ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এই সংখ্যাগুলো নিছক পরিসংখ্যান নয়; এর পেছনে লুকিয়ে আছে বিপুলসংখ্যক তরুণের স্বপ্ন, প্রত্যাশা, রাত জাগা পরিশ্রম, ভয়, হতাশা এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য সম্ভাবনা। 

পরীক্ষার ফল কি জীবনের সবকিছুর মাপকাঠি?

আমাদের সমাজে বহুকাল ধরে একটি প্রচলিত ধারণা শিকড় গেড়ে বসেছে—পরীক্ষার ফলাফলই নাকি একজন শিক্ষার্থীর মেধা ও যোগ্যতার একমাত্র সার্টিফিকেট। ভালো ফল করলেই সে ‘মেধাবী’, আর খারাপ করলেই কপালে জুটে যায় ‘অযোগ্য’ বা ‘ব্যর্থ’ তকমা। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভেবে দেখলে কি বাস্তবতা এত সরল মনে হয়? 

কখনোই না। একটি খাতার নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন আর তার উত্তর কখনো একজন তরুণের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার ক্ষমতা কিংবা তার অদম্য পরিশ্রমের পুরো মূল্যায়ন করতে পারে না।

পরীক্ষায় খারাপ ফল করার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এটি হতে পারে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের প্রতি ভীতি, ভুল পড়ার কৌশল, পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনার ঘাটতি কিংবা কোনো মানসিক ও শারীরিক চাপ। সুতরাং, পরীক্ষার ফল কোনো চূড়ান্ত রায় নয়; এটি কেবল একটি সতর্কবার্তা বা সংকেত মাত্র। 

ফল খারাপ হয় কেন?

ফল বিপর্যয়ের পেছনে শারীরিক ও মানসিক নানা কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— 

নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস না থাকা এবং শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত চাপ। 

বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করতে না পারা। 

পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত নার্ভাসনেস বা সময় ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা। 

পারিবারিক অস্থিরতা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি।

তাই ফল হাতে পাওয়ার পর প্রথম কাজ ‘আমি ব্যর্থ’ এই ভেবে ভেঙে পড়া নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় সমস্যাগুলোর মূল কারণ খুঁজে বের করা।

‘ফেল মানেই মেধাহীন’—এই মানসিকতা বদলাতে হবে

কোনো একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানে এই নয় যে শিক্ষার্থীর মেধা নেই। গণিত বা বিজ্ঞানের কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ে সমস্যা থাকতেই পারে। তাই পুরো বিষয়টিকে না, বরং সুনির্দিষ্ট দুর্বলতাগুলোকে আলাদা করে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। পদ্ধতি বদলালে ফলাফলও বদলায়।

অভিভাবকদের ভূমিকা: এই সময়ে সবচেয়ে বড় আশ্রয়

ফল খারাপ হওয়ার পর সন্তানের ওপর রাগ ঝাড়া, অপমান করা কিংবা আশপাশের কারও সঙ্গে তুলনা করা পরিস্থিতিকে আরও বিষাক্ত করে তোলে। 

‘ও এত ভালো করল, তুমি পারলে না কেন’—এই ধরনের নেতিবাচক কথার বদলে অভিভাবকের বলা উচিত, ‘কোথায় সমস্যা হয়েছে বলো, আমরা আবার নতুনভাবে শুরু করব।’ একজন হতাশ শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি নিরাপদ পারিবারিক আশ্রয়, যেখানে সে কোনো ভীতি ছাড়াই নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করতে পারে। 

হতাশা কাটানোর কার্যকর উপায় 

সময় দিন: ফল খারাপ হওয়ার পর মন খারাপ হওয়া বা কান্না পাওয়া স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘ সময় নিজেকে গুটিয়ে না রেখে বিশ্বস্ত বন্ধু, শিক্ষক বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন। 

নতুন রুটিন তৈরি করুন: আগের ভুলগুলো চিহ্নিত করে দুর্বল বিষয়গুলোকে সামনে রেখে একটি বাস্তবসম্মত পড়ার রুটিন তৈরি করুন। 

ধারাবাহিক অনুশীলন: শুধু দীর্ঘ সময় বই নিয়ে বসে থাকলেই হবে না; বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান এবং ঘড়ি ধরে মডেল টেস্ট দেওয়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে। 

শারীরিক ও মানসিক যত্ন: পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং হালকা শারীরিক পরিশ্রম বা বিরতি মনোযোগ ধরে রাখতে দারুণ সাহায্য করে।

নতুন সূচনার অপেক্ষা

ইতিহাসের সফল মানুষদের দিকে তাকালে দেখা যায়, কারও পথই সহজ ছিল না। বারবার হোঁচট খেয়েই তারা নিজেদের পথ খুঁজে নিয়েছেন। তাই একটি ফলাফল দিয়ে সম্ভাবনার আকাশ মাপা যায় না।

যেসব শিক্ষার্থীর ফল এই যাত্রায় আশানুরূপ হয়নি, তাদের মনে রাখা দরকার—এই ফলাফল আপনার পরিচয় নয়। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের মূল্যায়ন। জীবন থেমে থাকে না, সামনে আরও অনেক পথ এবং নতুন সুযোগ আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে।  

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

পরীক্ষার ফলই কি জীবনের শেষ কথা, নাকি নতুন শুরুর সুযোগ?

পরীক্ষার ফলই কি জীবনের শেষ কথা, নাকি নতুন শুরুর সুযোগ?

বাড়ি নির্মাণে কতটুকু জায়গা ছাড়তে হবে, কী বলছে আইন?

বাড়ি নির্মাণে কতটুকু জায়গা ছাড়তে হবে, কী বলছে আইন?

আয়রন ঘাটতি কি সত্যিই মুখ দেখে বোঝা যায়? লক্ষণগুলো জানুন

আয়রন ঘাটতি কি সত্যিই মুখ দেখে বোঝা যায়? লক্ষণগুলো জানুন

বায়ুদূষণে ফুসফুসের সুরক্ষায় ভুল মাস্ক পরছেন না তো?

বায়ুদূষণে ফুসফুসের সুরক্ষায় ভুল মাস্ক পরছেন না তো?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম