অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও বারবার ফিরছে প্রস্রাবের সংক্রমণ, করণীয় কী
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ কিংবা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন হলে শুধু বেশি বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম খোঁজা বিপজ্জনক। বারবার প্রস্রাবে জ্বালা, খানিক সময় অন্তর টয়লেটে ছোটা— অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কমছে, কিন্তু মাস ঘুরতেই আবার ফিরছে সেই একই যন্ত্রণা— এমন সমস্যায় ভুগছেন হাজার হাজার মানুষ। কারণ ঘন ঘন এ সমস্যা ফিরে আসার আসল কারণ খুঁজে বের করতে মূলত কিছু পরীক্ষা করানো জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শুরু করার আগেই প্রস্রাবের নমুনা দেওয়া উচিত, নয়তো পরীক্ষার রিপোর্টে ভুল আসতে পারে। সমাধানের জন্য করিয়ে ফেলুন কয়েকটি পরীক্ষা।
প্রস্রাবের সময় জ্বালা, খুব ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, অল্প অল্প করে বারবার প্রস্রাব হওয়া, তলপেটে ব্যথা বা জ্বর— এসবই ইউটিআইয়ের সাধারণ লক্ষণ। তবে বেশি বেশি ওষুধ খাওয়ার আগে রোগের কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, যেসব পরীক্ষা করা উচিত—
১. ইউরিন রুটিন ও ইউরিন কালচার
এটাই প্রথম এবং সবচেয়ে জরুরি পরীক্ষা। রুটিন পরীক্ষায় দেখা হয়, প্রস্রাবে পাস সেল, গ্লুকোজ বা নাইট্রাইট আছে কিনা। আর কালচারে ধরা পড়ে কোনো ব্যাক্টেরিয়ার জন্য সংক্রমণ হচ্ছে কিনা। চিকিৎসকের রিপোর্ট পেতে ৩-৫ দিন লাগতে পারে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক শুরুর আগেই প্রস্রাবের নমুনা দিতে হবে, না হলে রিপোর্ট ভুল আসতে পারে।
২. ব্লাড সুগার
ডায়াবেটিস থাকলে ইউটিআইয়ের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই সুগার লেভেল চেক করাও জরুরি। অনেক সময় ডায়াবেটিস ধরা পড়ে না শুরুর দিকে। ঘন ঘন প্রস্রাবে সংক্রমণ হলে তাই সাবধান হওয়া জরুরি।
৩. ইউএসজি কেইউবি
মানে কিডনি, ইউরেটার ও ব্লাডারের আল্ট্রাসাউন্ড। এতে বোঝা যায়, প্রস্রাবের পথে পাথর কিংবা কোনো বাধা আছে কিনা বা প্রস্রাব করার পরও মূত্রথলিতে কিছু থেকে যাচ্ছে কিনা। আবার জমে থাকা প্রস্রাব থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।
৪. সিরাম ক্রিয়েটিনিন
এটি কিডনির কাজ কেমন হচ্ছে, তা বোঝার পরীক্ষা। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে ঘন ঘন সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে।
৫. বিশেষ টেস্ট
পুরুষের বারবার ইউটিআই হলে প্রথমে প্রস্টেট পরীক্ষা করা দরকার। যৌনবাহিত সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকলে সেই পরীক্ষাও করাতে হতে পারে। প্রস্রাবের সঙ্গে বারবার রক্ত বের হলে কিংবা পাথরের সন্দেহ থাকলে সিটি কেইউবি বা সিস্টোস্কোপি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন চিকিৎসক।
