নেতানিয়াহু ইতিহাসের ভুল দিকে, বললেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্ট
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ এএম
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ইতিহাসের ভুল দিকে’ রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আল-আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওলমার্ট বলেন, বিরোধী দলের নেতা নাফতালি বেনেট, গাদি আইজেনকট, ইয়ার লাপিদ কিংবা ইয়ার গোলানের পক্ষে যারা ভোট দিয়েছেন, তারা ইতিহাসের সঠিক দিকে রয়েছেন। যদিও তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, তবে নেতানিয়াহু রয়েছেন ইতিহাসের ভুল দিকে।
ইসরাইলের বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট ও তার দল ইয়াশারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওলমার্ট বলেন, দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আইজেনকোট তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বেশি উপযুক্ত।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, গাদি আইজেনকোটকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে তার পরিপক্বতা ও প্রস্তুতি। এ ছাড়া আমার ধারণা, অন্যদের তুলনায় তিনি বেশি জনপ্রিয়।’
নির্বাচনকে ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন উল্লেখ করে ওলমার্ট বলেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রে ইহুদি জনগোষ্ঠীর আধুনিক ইতিহাসে এটি সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটি।’
তিনি বলেন, ইসরাইলের ভোটাররা দেশটির গণতন্ত্র ও সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান রক্ষার জন্য লড়াই করছেন।
জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর অবস্থান সম্পর্কে ওলমার্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বর্তমান রাজনৈতিক সমর্থনের এক-তৃতীয়াংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হারাতে পারেন। জনমত জরিপেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের দুই দিন আগে নেতানিয়াহুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টেরও সমালোচনা করেন ওলমার্ট। ওই পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি তেল আবিবের ওপর পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ছবি প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু।
ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের কারণে ইসরাইল অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর দেশটির নিরাপত্তা নির্ভর করছে।
ওলমার্ট একে ‘হতাশা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সঠিকভাবে বিচার করার প্রকৃত সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলার লক্ষণ’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের ওপর আসন্ন বিপদ নিয়ে আতঙ্ক, উন্মাদনা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছেন। ওলমার্ট বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে স্বৈরশাসকরা সাধারণত এমনটাই করে থাকেন।’
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ওলমার্ট। ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করার বিষয়ে নেতানিয়াহু মিথ্যা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওলমার্ট বলেন, ‘নেতানিয়াহু বলেছেন, আমরা সবকিছু পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি। এমনকি তিনি সরাসরি মিথ্যা ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটি কথাও বলেছেন। তার দাবি, ২০২৫ সালের জুনে কিংবা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ইরানে হামলার সময় দেশটির হাতে কয়েকটি পারমাণবিক বোমা ছিল, যা আমরা ধ্বংস করেছি।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি, তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক বোমা ছিল না। তাদের কাছে যা ছিল, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভূগর্ভে কোথাও বাক্সে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু তাদের কখনোই পারমাণবিক বোমা ছিল না, তারা কখনো বোমার মালিক হয়নি এবং আমরাও কোনো বোমা ধ্বংস করিনি।’
দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এগিয়ে নিতে ঝুঁকি নেওয়ার আহ্বান জানান ওলমার্ট। তার মতে, ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো সম্ভাব্য সমাধান।
হামাসের নেতৃত্বে ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের আগে নেওয়া নীতির জন্যও নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন তিনি।
ওলমার্ট বলেন, ‘এই কৌশল তিনিই তৈরি করেছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা বা সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনিই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে তিনি হামাসের সঙ্গে একধরনের সমঝোতা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।’
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়েও সতর্ক করেন ওলমার্ট। তিনি বলেন, এসব সহিংসতা বন্ধে ব্যবস্থা না নিলে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বকে আইনি পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।
ওলমার্ট বলেন, ‘ইসরাইলের নেতৃত্ব এবং দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের কমান্ডারদের প্রতি আমার বার্তা হলো, পশ্চিম তীরে ইহুদি সন্ত্রাসবাদ দমনে আপনারা ব্যবস্থা না নিলে সেখানে সংঘটিত অপরাধের জন্য আইনগতভাবে দায়ী থাকবেন। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও আপনাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হতে পারে।’
নির্বাচনের আগে ইসরাইলি ভোটারদের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওলমার্ট বলেন, ‘আমাদের পরিবর্তন আনতে হবে, আর আমরা তা পারব। এই পরিবর্তন ইসরাইল রাষ্ট্র, ফিলিস্তিনি জনগণ, পুরো অঞ্চল এবং বিশ্বের ইহুদি জনগোষ্ঠীর জন্য এক ধাপ অগ্রগতি হবে।’


