Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

বন্যা পরিস্থিতিতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

বন্যা পরিস্থিতিতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

সারা দেশে দুর্যোগ কবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উদ্ধার, সুরক্ষা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ করে যাচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ নিয়ে শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। 

মাহদী আমিন বলেন, দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু জায়গায় বন্যা হয়েছে, পাহাড় ধ্বংস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান- এ পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এ বিষয়টি মনিটরিং করছেন এবং তার বিভিন্ন টিমের সদস্যদের মাধ্যমে মনিটরিং করাচ্ছেন। গতকালকে পাঁচ জেলার যারা রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন, সরকারের ভেতরে থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিসের সবার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, কীভাবে জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে, কীভাবে জনগণের পাশে থাকতে হবে। আগামীকালও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাদের মতামত নেবেন এবং তার নির্দেশনা প্রদান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, যে উদ্ধার তৎপরতা রয়েছে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সব অনুষঙ্গ অর্থাৎ একদম ইউএনও থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যারা রয়েছেন, ওসি থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ের একটা সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে। 

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় যার যার জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে ছুটি গিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সরাসরি মনিটরিং করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সবাই যার যার এলাকায় ছুটে গিয়েছেন। বিশেষভাবে, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একদম তৃণমূলে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বিএনপির চেয়ারম্যান, স্বাভাবিকভাবে তিনি তার পুরো দলকেও কিন্তু ইতোমধ্যে আহ্বান জানিয়েছেন- যেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে ত্রাণ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন, উদ্ধার কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেন। ইতোমধ্যে মূল দল বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির সব অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রতিটি জায়গায় স্থানীয়ভাবে সাধারণ জনগণের সঙ্গে থেকে কাজ করছেন এবং যেভাবে পারছেন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

বন্যাকবিলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ খুব দ্রুত গতিতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যারা অর্থনৈতিকভাবে বিপদগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে, তাদের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কাছে চালসহ সব ধরনের সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, উপকূলবর্তী এলাকায় ইতোমধ্যে কোস্টগার্ডকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায়, যেখানে প্রয়োজনমতো সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ উদ্যমের কাজ করে চলেছে জনগণের জন্য।

পানিবাহিত রোগের একটি বিশাল সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে মাহদী আমিন জানান, ইতোমধ্যে সে বিষয়ে মেডিকেল টিমকে মোবিলাইজ করা হয়েছে। দেশজুড়ে ঔষধ-বিশেষভাবে সাপের দংশন এবং ভ্যাকসিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে রাস্তা এবং রেলপথকে দ্রুত গতিতে মেরামত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলজিইডি এবং রোডস অ্যান্ড হাইওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে প্রস্তুতির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

খুব দ্রুতই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, যারা স্বাভাবিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত যেসব গৃহস্থলী রয়েছেন, অনেকেই বিভিন্নভাবে কৃষি ক্ষেত্রে, মৎস্য চাষে বা গবাদি পশু পালনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত, তাদেরকে ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া যায়, সেগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ  শুরু হয়েছে।

এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, তার প্রত্যেকটিতে খাদ্য, পানি এবং স্যানিটেশনকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যা দেখা দিয়েছে, যাতে কিছু ক্ষেত্রে যোগাযোগের ঘাটতি হচ্ছে। তারপরও যতটা সম্ভব আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মী যারা রয়েছেন, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন, তারা কীভাবে সেই সংযোগটাকে আরেকটু মেরামত করতে পারেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারেন, সেগুলো নিয়ে কাজ করছেন। সামগ্রিকভাবে আমাদের যারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, বিএনপির সর্বস্তরের নেতারা রয়েছেন- তারা প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জনগণের সুরক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং নির্দেশনায় আমরা একই সঙ্গে রেসকিউ, রিলিফ এবং রিহ্যাবিলিটেশন এই তিনটা ফেসকে নিয়ে একই সঙ্গে কাজ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেখুন- যখন একটি জাতির জন্য দুর্যোগের ঘনঘটা নেমে আসে, তখনই কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়। জনগণের নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আমরা সেন্ট্রালি যা করার প্রয়োজন তাই করব। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং সব শ্রেণি এবং পেশার মানুষই এক হয়ে যদি আমরা এ দুর্যোগে লাঘব করার জন্য কাজ করে যাই এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে গভীর ভালোবাসা এবং উপলব্ধির মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এই মানুষগুলোকে কীভাবে বর্তমান যে সমস্যায় রয়েছেন, সংকটে রয়েছেন, সেখানে উত্তরণ করা সম্ভব। আমার ধারণা আমরা সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ সেটি নিশ্চিত করতে পারব। 

তিনি আরও বলেন, একটা নির্বাচিত সরকার তাদের সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা এবং গভীর মমত্ববোধ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলায় এবং সারা দেশজুড়ে যে প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা, পাহাড়ধস এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, তাদেরকে আরও সুরক্ষিত রাখার জন্য, তাদের ত্রাণ, খাদ্য, পানি, স্যানিটেশন নিশ্চিত করবার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যারা পরীক্ষার্থী রয়েছে তাদের যেন জীবনে যে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে যেন বেরিয়ে আসতে পারে।

মাহদী আমিন বলেন, পরীক্ষা বিলম্বিত করার মাধ্যমে বহুমুখী একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা চাই, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যেন একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে, সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি মানুষের পাশে রয়েছে। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র জানান, চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি ও সমমনা সব পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা (সুজন মাহমুদ) ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।  

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম