শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার না হলে আত্মসমর্পণ করবেন লতিফ সিদ্দিকী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। হাজিরা শেষে তিনি জানান, গ্রেফতার না হলে আগামি সপ্তাহের রোববার বা সোমবার তিনি শাপলা চত্বর হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) শাহবাগ থানার ওই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। লতিফ সিদ্দিকীসহ অপর আসামিরা আদালতে হাজিরা দেন। তবে শাহবাগ থানা পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত আগামি ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমার পরবর্তী দিন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী গোলাম রাব্বানী।
হাজিরা শেষে আদালত থেকে বের হয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অভিযুক্ত, এ জন্য আজ আদালতে এসেছি। যে মামলায় আমি ২০২৫ সালে গ্রেফতার হয়েছিলাম। আজকে কিন্তু আমি একটা প্রয়োজনে এসেছি। আপনারা (সাংবাদিক) জানেন কি না জানি না, আমাকে আজকে সকালবেলা জানানো হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটা মামলা হয়েছে। শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওই মামলা। সেই মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আজ যদি আমি না আসি (আদালতে) তাহলে মনে করা হবে আমি বোধ হয় আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না। আমি সব সময় আত্মপ্রকাশ করতে চাই। সে জন্য আজকে এসেছি। এখন পুলিশ যদি আমাকে গ্রেফতার না করে তাহলে আগামী রবিবার বা সোমবার আদালতে গিয়ে নিজেকে সমর্পণ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, আমাকে যেতে হবে না। আর মধ্যে যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তাহলে তো ভিন্ন কথা। আমি কিন্তু এবার আর ২৮ তারিখের মতো অপ্রস্তুত নই। তৈরি হয়ে আছি। আমার গাড়িতে ব্যাগ আছে, লেখালেখির জন্য খাতা-কলম আছে।’
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ মঞ্চ নিয়েও কথা বললেও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি লতিফ সিদ্দিকী।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ২৮ আগস্ট সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার একটু পরেই একদল ব্যক্তি আওয়ামীবিরোধী স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল এলে তারা পুলিশের কাছে লতিফ সিদ্দিকী, শেখ হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক মনজুরুল আলমসহ অন্তত ১৬ জনকে তুলে দেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

-6992d2c8529e3.jpg)


