টুথপেস্ট থেকেও শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, কী ক্ষতি করছে?
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শিশুদের জন্য তৈরি ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেও রয়েছে এই অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিদিন দাঁত মাজার সময় শরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে— পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এসব কণা খাবার, পানি, বাতাস এবং ব্যক্তিগত পরিচর্যার বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে মানুষের রক্ত, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, প্লাসেন্টাসহ বিভিন্ন অঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এসব কণা পরিপাকতন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, হরমোনের ভারসাম্য, প্রজননক্ষমতা এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ধমনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে না। তবে কিছু প্রসাধনী ও পরিচর্যাপণ্যে ঘর্ষণকারী উপাদান, ঘনত্ব বজায় রাখা বা বিভিন্ন উপাদানকে একত্রে ধরে রাখার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে টুথপেস্টসহ মুখগহ্বর পরিচর্যার পণ্যে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে ইএসডিও এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) বলছে, অনুমোদিত উপাদানের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক নেই এবং টুথপেস্টে এর উপস্থিতি থাকা উচিত নয়।
