অবশেষে লেইসের সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বদলি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২১ পিএম
বুলবুল আহমেদ। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের বিতর্কিত সহকারী প্রকল্প পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) বুলবুল আহমেদকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে।
গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ-২ শাখার এক আদেশে তাকে বদলি করা হয়। এর আগে দৈনিক যুগান্তরে লেইস প্রকল্পে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরই তাকে প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, লেইস প্রকল্পের বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় বুলবুল আহমেদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৩ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের লেইস প্রকল্পটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রকল্পের সার্ভিস প্যাকেজের আওতায় কনসালট্যান্ট ফার্ম নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার এবং গুডস প্যাকেজের আওতায় টিটিসি ও এইচএসটিটিতে নিম্নমানের বা নকল পণ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এসি, ফটোকপি মেশিন, রাউটার, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, আসবাবপত্র ও সফটওয়্যার কেনাকাটার বিভিন্ন দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালক আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগসাজশ করে সহকারী প্রকল্প পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) বুলবুল আহমেদ বিভিন্ন ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বুলবুল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে মাউশির বিভিন্ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। গত প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি এসইডিপি ও লেইসসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন একই ধরনের প্রকল্পে দায়িত্ব পালনের কারণে তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শেখ হাসিনার পক্ষে মাউশি প্রাঙ্গণে শিক্ষা ক্যাডারের একটি মিছিলে বুলবুল আহমেদের অংশ নেওয়া এবং জুলাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

