জন্মদিনের আনন্দ শেষ হলো রিকশাচালকের রক্তে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর গাবতলীতে রিকশাচালক হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তিন কিশোরের একজনের ১৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল পার্টি।
সেই পার্টিতে গাবতলী এলাকা থেকে বাংলা মদ কিনে এনে তিনজন মিলে পান করে। পরে মদ্যপ অবস্থায় বাইরে বের হয়ে এক রিকশাচালককে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে জড়িয়ে পড়ে তর্কে। সেই বিরোধের জেরেই শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান ওই রিকশাচালক।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, সাঈদের ১৭ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে তার চাচাতো ভাই রুয়েল জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে সাঈদ, জিহাদ ও ফারদিন অংশ নেয়। এ সময় গাবতলী এলাকা থেকে বাংলা মদ কিনে এনে তারা পান করে এবং আনন্দ-ফুর্তি করে।
পরে রাতে মদ্যপ অবস্থায় তিনজন গাবতলীর দিকে চা খেতে বের হয়। পথে এক রিকশাচালককে দেখে তাদের সন্দেহ হয়, তিনি ছিনতাইকারী হতে পারেন।
এ সময় তারা নিজেদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে ফেলে। এরপর রিকশাচালকের বাড়ি-ঘর কোথায় জানতে চায় তারা।
এ নিয়ে রিকশাচালকের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রিকশাচালক সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সাঈদ সেখানে এসে আগের ঘটনার কথা জানতে পারে। বিষয়টি শুনে সে উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
পরে স্থানীয় আল আমিন রেস্টুরেন্টের সামনে ওই রিকশাচালকের সঙ্গে আবার তাদের দেখা হয়। তখন ফের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রিকশাচালক হোটেলের ভেতরে গিয়ে পানি পান করে বেরিয়ে আসেন।
বের হওয়ার সময় সাঈদ তাকে আটকে আগের ঘটনার কারণ জানতে চায়। এ সময় আবারও তর্ক শুরু হলে সাঈদ ও জিহাদ তাকে চড় মারতে থাকে।
একপর্যায়ে রিকশাচালক উত্তেজিত হয়ে পড়লে সাঈদ সঙ্গে থাকা সুইচগিয়ার বের করে তার ঘাড়ে আঘাত করে।
আঘাতে রিকশাচালকের ঘাড়ের রগ কেটে যায়। তিনি রিকশার ওপর লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিন কিশোর দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এর আগে হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে এলাকায় ভয়ভীতি দেখানো ও ‘মাস্তানি’ করার উদ্দেশ্যে সাঈদ একটি সুইচগিয়ার কিনেছিল বলে জানিয়েছে ডিবি। কিশোর গ্যাংয়ের মতো ভাব তৈরি করতেই সে অস্ত্রটি কিনেছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের পর তিনজনই ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে ডিবির মিরপুর বিভাগ। গ্রেফতার তিনজন হলো সাঈদ, জিহাদ ও ফারদিন। তাদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
বুধবার ভোরে গাবতলীর আল্লাহর দান হোটেলের সামনে রিকশার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় ওই রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তিন দিন পরও তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়েও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান যুগান্তরকে জানান, গ্রেফতার তিনজনের বয়সই কম। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলেও সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
