ছোট ভাইয়ের হাঁসুয়ার কোপে বড় ভাই খুন
Advertisement
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের হোগলবাড়িয়ায় ২০০ টাকা চাওয়ার পর ২০ টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবাকে মারধরের ঘটনায় বড় ভাই এমদাদ হোসেন রাছেল (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ডাব কাটার হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই ইমরান হোসেনের (৩০) বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাছেলের মৃত্যু হয়।
নিহত রাছেল ওই গ্রামের ডাব ব্যবসায়ী আহাদ হোসেনের বড় ছেলে। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন শিল্পনগরী আল্লারদর্গার একটি পারটেক্স কোম্পানিতে চাকরি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাছেল তার বাবা আহাদ হোসেনের কাছে ২০০ টাকা চান। রাছেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত থাকায় তার অত্যাচারে পরিবার অতিষ্ঠ ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। এ কারণে আহাদ হোসেন ২০০ টাকার পরিবর্তে তাকে ২০ টাকা দিয়ে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাছেল বাবাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে ছোট ভাই ইমরান বাড়িতে এসে বাবার ডাব কাটার হাঁসুয়া দিয়ে রাছেলের পায়ে কোপ দিলে গুরুতর আহত হন রাছেল।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাছেলের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় তিনটি এবং ঈশ্বরদী থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমরান হোসেন পলাতক রয়েছেন।
দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাছেল তার বাবার কাছে ২০০ টাকা চান। বাবা ২০০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা দেওয়ায় রাছেল তাকে মারধর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছোট ভাই ইমরান বাড়িতে থাকা হাঁসুয়া দিয়ে রাছেলের পায়ে কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওসি আরও জানান, রাছেলকে রাজশাহী নেওয়া অ্যাম্বুলেন্স ও তার তিন স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ইমরান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রক্রিয়া চলছে।

