এসএসসিতে ফেল করাদের জন্য সুখবর নেই এ বছর
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যেই ‘সম্পূরক পরীক্ষার’ সুযোগ দিতে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় সব বিষয়ে নয়, কেবল যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য বা ফেল করবে, সেসব বিষয়েই সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে। তবে সেটি চলতি বছর থেকে চালু হচ্ছে না। অর্থাৎ, এবার যারা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফেল করেছে, তাদের পরীক্ষা দিতে আগের নিয়মে এক বছর অপেক্ষা করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, চলতি বছর থেকেই তারা তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার বিষয়টি চালু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের প্রায় দুই মাস আগে ফল প্রকাশ হয়েছে। ফলে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া কঠিন বলে পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করতে বলেছেন। কিন্তু এ বছর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘সম্পূরক পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি কেমন হবে, তা নিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ করতে শিক্ষা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। তাদের প্রশ্ন কখন হবে, কখন পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারা কীভাবে একাদশে ভর্তি হবে, তাদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ কীভাবে সমন্বয় করা হবে, এসব বিষয় সমাধানের জন্য নীতিমালা প্রয়োজন। এই নীতিমালা প্রস্তুত করে চলতি বছরের এসএসসিতে ফেল করা পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্যই শিক্ষা বোর্ড চাইছে, আগামী বছর থেকে এ সম্পূরক পরীক্ষা চালু করতে।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে সাত কর্মদিবসের মধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা করতে বলেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আমরা একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে পারবো। এরপর সেটা ধরেই হয়তো মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা তৈরি করবে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এদিকে, ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। প্রথমবার অকৃতকার্য হওয়া ৪ হাজার ৫৮৫ পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের পর উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০৭ জন।

