ডিভি লটারির জন্য বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, জানা যাবে আজ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড বা ডিভি লটারি প্রোগ্রাম পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশের প্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। তবে এবারের ডাইভারসিটি ভিসা লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কিনা, তা জানতে অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আজ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে কম সংখ্যক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পান, মূলত তাদের জন্যই এই ডাইভারসিটি ভিসা লটারি প্রোগ্রাম।
২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে উচ্চ অভিবাসন সংখ্যার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিরা এই ডিভি লটারির বাইরে রয়েছে। এবার যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা, তা নিয়ে সারা দেশের উৎসাহী আবেদনকারীদের নজর এখন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ তালিকার দিকে।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ অভিবাসন হারের কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে অভিবাসনের সুযোগ পেয়েছিলেন।
ডিভি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, কেবল সেইসব দেশের নাগরিকদের দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘গ্রিন কার্ড লটারি’ নামে পরিচিত।
ডিভি লটারিতে সাধারণত আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এর বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু পেশায় নির্ধারিত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ থাকে।
মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জিনসুক ওহতা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবিলম্বে এই লটারি প্রক্রিয়া সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী, ডিভি লটারির যাবতীয় যোগ্যতার শর্তাবলি ও নির্দেশিকা ২৯ অক্টোবর প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
এরপর আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৩০ দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। আবেদনের প্রক্রিয়া শেষে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজয়ীদের নাম ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে চূড়ান্তভাবে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করার জন্য ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে।
২০২৫ সালের শেষের দিকে ডিভি লটারির আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর ‘রেড ইগল ল’ নামক একটি আইনি সংস্থা আদালতের শরণাপন্ন হয়। যার ভিত্তিতে আদালত দ্রুততম সময়ে নিবন্ধন শুরুর নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ডিভি লটারির এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া কতখানি নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।


