ভাড়া বাসা থেকে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম, কে এই ছাত্রলীগের ডেভিড
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল আকিল ডেভিড। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একসময় ছোট ঠিকাদার ছিলেন। ভাড়া বাসায় জীবন চালাতে হিমশিম খেতেন। তবে রাজনীতির প্রভাব আর ঢাকা ওয়াসা সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কপাল খুলে যায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল আকিল ডেভিডের। নিজেকে ‘প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ’ পরিচয় দেওয়া ডেভিডই হয়ে ওঠেন পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পের ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা লোপাটের অন্যতম মূল কারিগর।
এই অনিয়ম-দুর্নীতির কেন্দ্রে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, ওয়াসার সাবেক এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান প্রকল্প পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। আর ডেভিড ছিলেন চীনা ঠিকাদারের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও পরামর্শক।তাদের যোগসাজশে কারিগরি আপত্তি উপেক্ষা ও নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করে ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে পদ্মা থেকে পানি এনে মুন্সীগঞ্জের যশলদিয়ায় শোধন করে ঢাকায় সরবরাহের প্রকল্পটি করা হয়। কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। পরীক্ষামূলক চালুতে পাইপ ফাটলেও ঠিকাদার চূড়ান্ত বিল ও জামানত তুলে নিয়েছেন।
ঢাকা ওয়াসার প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ কেনা, নির্মাণকাজ বুঝে নেওয়া এবং সরবরাহ নিশ্চিত না করেই চীনা ঠিকাদারকে বিল পাইয়ে দেওয়ার নামে ওয়াসার স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি পাওয়ার কথা থাকলেও মিলছে মাত্র ২৫ কোটি লিটার। এতে পানির ঘাটতিজনিত ক্ষতি ও পাইপ কেনায় লোপাট মিলিয়ে গচ্চা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।
তাকসিম-রফিকুল-ডেভিডের যোগসাজশ
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, অর্থ লোপাটে নির্মাণের মান বিসর্জন দেওয়া হয়। বিগত ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তদন্তের দাবি উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাকসিম পলাতক। রফিকুল পদে বহাল থেকে সম্প্রতি অবসরে গেছেন। সূত্র জানায়, অর্থের বিনিময়ে পদে টিকে থাকা ও দুদকের তদন্ত থামানোর মূল কারিগর ছিলেন তিনি। পরিবারের অন্যরা ভারতের মুর্শিদাবাদে থাকেন। দুর্নীতির অর্থের অংশ সেখানে বিনিয়োগ করেছেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়ও বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন ডেভিড। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত এই ব্যবসায়ী এখন বিএনপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। সূত্রের ভাষ্য, তাকসিম, রফিকুল ও ডেভিডের মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম রয়েছে। সেখানে দুর্নীতির অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। শেখ রেহানার বিরুদ্ধেও লন্ডনে অর্থ পাচারের তথ্য দিয়েছেন তারা।
প্রকল্প পরিচালকের স্ত্রী ও ডেভিড ব্যবসায়িক অংশীদার
রফিকুলের স্ত্রী ও ডেভিড ন্যাশনাল ডিজাইন অ্যান্ড কনসালট্যান্ট লিমিটেডে যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিতে বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা ও নৌকা প্রতীকের সাবেক সংসদ-সদস্য প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুরসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত প্রকৌশলীরাও ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ওয়াসার সায়েদাবাদ প্রকল্প-২-এর ল্যান্ড ফিলিংসহ বিভিন্ন কাজ করে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ডেভিডকে চীনা ঠিকাদারের পরামর্শক নিয়োগ দিতে রফিকুল চাপ দেন।
ডেভিড যুগান্তরকে বলেন, ‘সরকার এ বিষয়ে তদন্ত করছে, করুক। তদন্তে যে বা যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের শাস্তি হোক। এটা নিয়ে আপনার কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন?’ এ বিষয়ে আর কথা বলতে চাননি তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কমিটি তদন্ত করেছে। প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়েছে। দুদক বিস্তারিত তদন্ত করলে অনিয়ম বেরিয়ে আসবে। তখন দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান সরকার কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেবে না।


