মিরপুরে হকার উচ্ছেদ: অবহিত না করায় ‘বিস্মিত’ জামায়াত আমির
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রেখে সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সবাইকে আপাতত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। পুলিশের সদস্যদের সঙ্গেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সংবাদ সংগ্রহে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এই আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।’
তিনি বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন ও ব্যবহারোপযোগী থাকে। এ জন্য সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে তাদের সেখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড। এর আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর পড়ে।
তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমারও দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাকে সম্পৃক্ত করা যেত। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি উত্তম ও কার্যকর পথ বের করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি।’
উচ্ছেদ অভিযানের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে নেওয়া এবং সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। যেখানেই সমস্যা রয়েছে, সেখানেই সমাধানের পথও রয়েছে। তবে সেই সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক—কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘তবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো জায়গা নেই।’
