রিমান্ড শেষে আদালতে মেজর আখতারুজ্জামান, চাইলেন জামিন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ সময় তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আখতারুজ্জামানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারুজ্জামানের পেছনে কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কিনা এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে যাত্রী ঢাকায় আসেন। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। একই সময়ে ট্রলির সংকট দেখা দিলে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে ঢাকায় আসেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সকাল ৯টা ৮ মিনিটে পার্কিং করে।
পরে যাত্রীরা বিমানবন্দরের ২১ নম্বর গেট দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এরপর তারা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় যান।
এজাহারে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয়। ট্রলি নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হলে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভঙ্গ করে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ ছাড়া লাগেজ আসতে দেরি হওয়া ও জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আখতারুজ্জামান অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়।
