ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া এ নির্বাচন বিষয়ে ৯টি অভিযোগ ও ৩টি দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছেন দলটির নেতারা।
আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। দলটির অভিযোগ, প্রশাসন নিরপেক্ষ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী সেখানে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে করেন। এসময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও ইসির সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিকাল ৪টায় এ বৈঠক শুরু হয়ে চলে ৫টা পর্যন্ত।
বৈঠকে আরও উপস্থিতি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন প্রমুখ।
বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসন, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিরপেক্ষ নয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না।
তিনি বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি দল শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগগুলো জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের পক্ষে ছবি, আহত ব্যক্তিদের ছবি এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণও দেওয়া হয়েছে।
তার অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। ওই কর্মকর্তা রাতে প্রার্থীর বাড়িতে বৈঠক করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার মতো পোস্ট দিয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, টাকা লেনদেন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকায় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে এবং নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন এমন অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। মসজিদের ভেতরে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনি সভা, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন প্রতীক ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের আগে মাইক বাজানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতের এ নেতা বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদেরও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া ভোটারদের সেবা দেওয়ার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন ইউনিয়নে মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।
১৯৯৪ সালের মাগুরার উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে মাগুরার নির্বাচনের মতো পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হলে তার পরিণতি সম্পর্কে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো দৃঢ় পদক্ষেপের কথা জানাতে পারেনি। তবে জামায়াত এখনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠক শেষে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন নিয়ে বলেন, প্রশাসনে যারা আছেন, তারা নিরপেক্ষ নন। তাদের আচরণ ও ভূমিকার মধ্যে আমরা নিরপেক্ষতা দেখতে পাইনি।


