শাকের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন যুবদল নেতা নয়ন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
রবিউল ইসলাম নয়ন। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরায় শাকের হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ফেসবুকে নয়ন লিখেন, শাকের হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা জড়িত তারা শাকের হত্যার আগে ও পরে যে নেতার সঙ্গে অতি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছিল, মাগুরা জেলার সচেতন নাগরিক ও সব নেতাদের সেই নেতাকেও আইনের আওতায় আনা আবশ্যক বলে মনে করেন।
নয়ন আরও লিখেন, শাকের হত্যার পরপর একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। প্রশ্ন তোলে, শাকের হত্যার পর আমি ফেসবুকে কোনো স্ট্যাটাস দেইনি কেন। কেন জানাজায় অংশগ্রহণ করিনি। যেদিন শাকের হত্যার শিকার হয় সেদিন আমি ভোরে, মানে শাকের হত্যার আগেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেই। কারণ ঐদিন যুবদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল। গাড়িতে বসে জানতে পারি শাকের স্ট্রোক করে মারা গেছে। মনটা বিষন্ন হয়ে যায়। আমি মুষড়ে পড়ি। ঢাকায় পৌঁছানোর পর ভীষণ অসুস্থ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থেকে উঠে পরে কিছুটা সুস্থ অনুভব করলে মাগুরার খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানতে পারি শাকের স্ট্রোক করে নয়, কেউ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি মাগুরার কিছু নিকৃষ্ট পলিটিশিয়ান এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে নোংরা পলিটিক্স শুরু করেছে। কিন্তু তখনো আমি শাকের হত্যা নিয়ে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে থাকি। অপেক্ষায় ছিলাম ঠিক একদিন সত্য উদঘাটন হবে। মাগুরাবাসী জানতে পারবেন প্রকৃত ঘটনা কী। কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। নিজেরা খুন করে কারা অন্যকে ফাঁসিয়ে দিতে মিছিল করল। কারা এই হত্যাকাণ্ডের মোড় ঘুরিয়ে দিতে প্রভাব বিস্তার করছিল। আমি জানি সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন তিনি সব দেখেন।
সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই যুবদল নেতা লিখেন, অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। মাগুরাবাসী দেখেছেন খুনিরা শাকেরকে খুন করার পর কোন নেতাকে জড়িয়ে ধরে মায়াকান্না করছিল। মাগুরাবাসী দেখেছে খুনিদের সঙ্গে সেই নেতার দহরমমহরম কতটা। যারা অর্থ এবং ক্ষমতার লোভে খুন করিয়ে এবং খুন রে সেই খুনেকর দায় অন্যের উপরে চাপিয়ে দিতে চাই তাদের কাছ থেকে মাগুরার মানুষ অন্তত আর কোন নীতিবাক্য শুনতে চায় না। লজ্জা থাকলে আর কখনো কাউকে নীতি বাক্য শোনাবেন না।
এরআগে মাগুরায় লুট করা ১৫০ ভরি স্বর্ণের বার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের। এর মধ্যে ডাকাতির ৬১ ভরি স্বর্ণ, দুটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সের সেড রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ৬ অক্টোবর সদরের রামনগরে এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহণের একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে মানিকগঞ্জের মজিবর রহমানের কাছ থেকে ১৫০ ভরি ওজনের ১৪টি স্বর্ণের বার লুট করে। ডাকাতিতে মাগুরা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মারুফ হোসেন ও পৌর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাকের হোসেনসহ ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল অংশ নেয় বলে দাবি আজাদ হোসেনের।
লুট করা স্বর্ণ নিয়ে মারুফের সঙ্গে সাকেরের বিরোধ দেখা দেয়। এরই জেরে মারুফ হোসেন ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম জাহিদের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে শাকেরকে গুলি মেরে হত্যা করা হয় বলে উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মাগুরা থানায় ডাকাতি ও হত্যা মামলার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে এখন পর্যন্ত দুটি মামলায় মোট ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এর মধ্যে হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলেন- রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম, অনিমেষ মজুমদার, মারুফ হোসেন, গোলাম জাহিদ এবং বশির আলী। অন্যদিকে সোনা ডাকাতির মামলায় গ্রেফতাররা হলেন- শাকেরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী পারনান্দুয়ালী নিজ গ্রামের মারুফ হোসেন, গোলাম জাহিদ, জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, ফরিদ মণ্ডল, পশু হাসপাতাল পাড়ার মিল্টন ও তার স্ত্রী মারুফা খাতুন। হত্যার ঘটনায় জড়িত বাকিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আজাদ হোসেন।
