তোমাদের লেখা
সৌন্দর্যে ভরা রঙিন হেমন্ত
Advertisement
রুদ্রদীপ পাল
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এ দুই মাস হেমন্তকাল। বছরের চতুর্থ ঋতুর আগমনে রূপ বদলায় প্রকৃতিতে। হেমন্ত মানেই মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানের ম-ম গন্ধ। সোনালি ধান মানেই কৃষকের হাসি। গ্রামের মাঠে যতদূর চোখ যায় সোনালি ধান আর ধান। আরও কত কী! গ্রামে সকাল শুরু হয় হালকা কুয়াশা নিয়ে। হিম হিম রোজ সকালে পাখির ডাক শুনে ঘুম থেকে জেগে উঠি এবং বই নিয়ে পড়তে বসি। হেমন্তের মিষ্টি সূর্যমামাও মনে অন্যরকম আনন্দ দেয়। এ ঋতুতেই চলে শীতের প্রস্তুতি। দিনে কড়া রোদ আর রাতে ঠান্ডা লাগে। শীতল বাতাসে টিনের চালে শিশিরফোঁটার টুপটাপ শব্দ শুনতে ভারি মজা লাগে। হেমন্ত এলেই খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করে। মাঠ-ঘাট শুকিয়ে যায়। তখন মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল, গোল্লাছুট, কানামাছি আর কত খেলা খেলি। সে কী হইচই! বলে বুঝানো যাবে না। মেঘমুক্ত আকাশে পাখিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। আবার, এ সময় শালিক, শঙ্খচিল, মাছরাঙা, পানকৌড়ি, বক, বালিহাঁস চোখে পড়ে। গ্রামের মেঠোপথ ধরে কৃষক লাঙল কাঁধে নিয়ে ছুটে চলার দৃশ্য খুবই চমৎকার। সবচেয়ে মজার বিষয়-ধান কাটা শেষে ধুমধাম করে ‘নবান্ন উৎসব’ পালন করা হয়। হেমন্তের শেষে গাছিরা খেজুর গাছের রস সংগ্রহের আয়োজন করে। সেই রস দিয়ে বানানো পিঠা খেতে অনেক মজা! স্কুলে যাওয়ার পথে শিউলি, গন্ধরাজ, বকুল, পদ্ম, ছাতিমসহ নাম না জানা হেমন্ত ঋতুতে ফুটে থাকা ফুলের সৌন্দর্য আর মিষ্টি সুবাস মনকে প্রশান্তি দেয়। তাই হেমন্ত ঋতু আমার প্রিয়। অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা রঙিন হেমন্ত ঋতুর আগমনে খুশিতে মন ভরে যায়।
রুদ্রদীপ পাল
দ্বিতীয় শ্রেণি
টংগিবাড়ী সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন
টংগিবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ।
