ফিচার
সোনালি রোদের চিঠি
Advertisement
মেজবাহ উদ্দিন
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরতের শুভ্র কাশফুল আর মেঘেদের লুকোচুরি খেলা যখন ধীরে ধীরে বিদায় নেয়, তখন প্রকৃতির আঙিনায় এক শান্ত, মায়াবী রূপ নিয়ে হাজির হয় হেমন্ত। কার্তিক আর অগ্রহায়ণ-এ দু’মাস যেন বাংলার প্রকৃতির সবচেয়ে লাজুক সময়। শরৎ আমাদের উপহার দিয়ে যায় নির্মল নীল আকাশ আর শিউলির সুবাস। তবে শরৎ বিদায় নিতেই প্রকৃতি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। রোদ আর ততটা প্রখর থাকে না, কেমন যেন এক কোমল আর নরম সোনালি আলোয় ভরে ওঠে আমাদের চারপাশ।
তোমরা যদি সকালবেলা ঘুম ভেঙে জানলা দিয়ে তাকাও, দেখতে পাবে কী অদ্ভুত এক কুয়াশার চাদর চারদিক ঘিরে রেখেছে! সাঁঝ-সকালে নদীর কূলে জমে ওঠা সেই ধোঁয়াটে কুয়াশা আমাদের কানে কানে বলে যায়, দূরে কোথাও শীত তার ডানা মেলছে। সবুজ পাতার খামের ভেতর লুকিয়ে থাকা হলুদ গাঁদা ফুলগুলো যেন শিশিরের কালিতে চিঠি লিখে ডেকে এনেছে এ হেমন্তকে। মাঠের দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়-মটরশুঁটি, কলাই আর খেসারির কচি ফুলগুলো বাতাসে দোল খেয়ে হেমন্তের মিষ্টি আগমনকে বরণ করে নিচ্ছে।
ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা কি কখনো খালি পায়ে ভোরের ঘাসের ওপর হেঁটেছ? সকালবেলার শিশিরভেজা ঘাসের ডগায় যখন পা পড়ে, তখন হালকা ও মধুর এক শীতল ছোঁয়ায় শরীরটা যেন আলতো করে শিরশিরিয়ে ওঠে। এ অনুভূতিটুকু শুধু হেমন্তেই পাওয়া যায়। হেমন্ত মানেই তো নতুন ধানের গন্ধ, কৃষকের মুখে সোনালি হাসি আর নবান্নের আনন্দ।
এ ঋতুর আরেকটি পরম উপহার হলো মিষ্টি খেজুরের রস। খুব ভোরে গাছ থেকে নামিয়ে আনা সেই তাজা রসের ঘ্রাণ আর মিষ্টি রোদে বসে পরিবারের সবাই মিলে গরম পিঠাপুলি খাওয়ার চেয়ে সুন্দর আনন্দ শৈশবে আর কী হতে পারে! হেমন্ত যেন এক স্নেহময়ী মায়ের মতো তার শিশিরভেজা আঁচল মেলে দেয়। সেই আঁচলের নিচে আকাশ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় নরম রং ঝরে পড়ে শিউলি ফুলের বোঁটায়, বোঁটাগুলো হয়ে ওঠে উজ্জ্বল কমলা।
হেমন্ত আমাদের শেখায় কীভাবে নীরবে সুন্দর হতে হয়। কোনো কোলাহল নেই, কোনো বাড়তি জাঁকজমক নেই; তবুও হেমন্ত অপূর্ব। এটি এমন এক ঋতু, যা আমাদের হৃদয়কে শান্ত করে এবং ভালোবাসতে শেখায়। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তোমরা একটু চোখ তুলে বাইরে তাকিও। শিশিরের ভেজা ঘাস, সোনালি রোদ আর দূর দিগন্তের হালকা কুয়াশার এ রূপকথা যেন তোমাদের মনে করিয়ে দেয়-জীবন কত সুন্দর এবং আশাময়। এ হেমন্তের নরম পরশ তোমাদের শৈশবকে ভরিয়ে তুলুক পবিত্র আনন্দ, অপার স্বপ্ন আর ভালোবাসায়।
