|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আজ ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার ধুবালীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবদুল জলিল এবং মায়ের নাম আমেনা খাতুন। যমুনার ভাঙনে গ্রামের বাড়ি ভেসে গেলে আবদুল জলিল ১৯৩০ সালে জীবিকার সন্ধানে দার্জিলিং চলে যান। আবদুল মতিন ১৯৩৬ সালে দার্জিলিং গভর্মেন্ট হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিনি ১৯৪৩ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৪৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ (পাস কোর্স) ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন কোর্স শেষ করেন এবং পরে মাস্টার্স করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কে।
আবদুল মতিন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কলাভবনে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ছাত্রসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের। তারই নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ভাষা আন্দোলনের পর তিনি ছাত্র ইউনিয়ন গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং পরে সংগঠনটির সভাপতি হন। ১৯৫৪ সালে পাবনা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক হন তিনি। মওলানা ভাসানী ন্যাপ গঠন করলে ১৯৫৭ সালে তাতে যোগ দেন। পরে তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন। টিপু বিশ্বাস, আলাউদ্দিন আহমদ ও তার নেতৃত্বে পাবনা জেলার জনগণ মুক্তিযুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালন করে।
১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০৬ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। ২০০৯ সালে হায়দার আকবর খান রনোর নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠন) গঠিত হলে আবদুল মতিন তাতে যোগ দেন। ২০১৩ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠিত) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ গঠিত হয় এবং আবদুল মতিন নবগঠিত এই দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য মনোনীত হন।
আবদুল মতিনের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-ভাষা ও একুশের আন্দোলন, বাঙালি জাতির উৎস সন্ধান ও ভাষা আন্দোলন, জীবন পথের বাঁকে বাঁকে ইত্যাদি। তিনি একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
