বিচারপতি আবদুস সাত্তার
Advertisement
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল ৫ অক্টোবর। তিনি ১৯০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ এবং ১৯২৯ সালে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এরপর তিনি কলকাতা জজকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন। আবদুস সাত্তার ১৯৪১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি শুরু করেন। তিনি কলকাতা করপোরেশনের কাউন্সিলর (১৯৩৯), কলকাতা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাইব্যুনালের অ্যাসেসর-মেম্বর (১৯৪০-৪২) এবং কলকাতা করপোরেশনের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (১৯৪৫) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারত বিভক্তির পর আবদুস সাত্তার ঢাকায় এসে হাইকোর্টে ওকালতি শুরু করেন। শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৯৫৩ সালে কৃষক-শ্রমিক পার্টি গঠিত হলে তিনি তাতে যোগ দেন। তিনি ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং আইআই চুন্দ্রিগড়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন (১৯৫৭)। আবদুস সাত্তার ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। তিনি ১৯৬৯-৭২ সালে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বিচারপতি সাত্তার ১৯৭৩ সালের শেষদিকে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসার পর বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জীবন বীমা করপোরেশনের পরিচালকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান (১৯৭৩-৭৪), সংবাদপত্র বেতন বোর্ডের চেয়ারম্যান (১৯৭৪-৭৫) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিচারপতি আবদুস সাত্তার ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের বিশেষ উপদেষ্টা নিযুক্ত হন এবং আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন। জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলের (জাগদল) আহ্বায়ক ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সহ-সভাপতি পদে যোগদান করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হলে বিচারপতি আবদুস সাত্তার দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান হন। তিনি ১৯৮৫ সালের ৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
