ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান
Advertisement
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সরোদ বাদক ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৩১ সালের ১৯ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামের এক প্রখ্যাত সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ওস্তাদ আয়েত আলী খান একজন প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী ছিলেন। তার মাতা উমর উন-নেসা। তার চাচা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান উপমহাদেশের একজন অন্যতম সংগীতজ্ঞ ছিলেন। ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খানের বড় ভাই প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ আবেদ হোসেন খান এবং ছোট ভাই সংগীত গবেষক ও লেখক মোবারক হোসেন খান।
পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী শৈশব থেকেই সংগীত সাধনায় মগ্ন হন বাহাদুর হোসেন খান। পিতার হাতেই তার সরোদের হাতেখড়ি হয়। সংগীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তার পিতা তাকে মাইহারে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তার চাচা আলাউদ্দিন খানের কাছে দীর্ঘ ২০ বছর সরোদের তালিম গ্রহণ করেন।
ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান ১৯৪৯ সালে বাংলাদেশ বেতারে শিল্পী হিসাবে যোগ দেন। সেখানে দুই বছর থাকার পর ১৯৫১ সালে বম্বে চলে যান। সেখানে তিনি নৃত্যশিল্পী শান্তি বর্মণের ‘লিটল ব্যালে ট্রুপ’র সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বাহাদুর হোসেন খানের কয়েকটি লংপ্লেসহ বেশকিছু রেকর্ড বের হয়েছে। তিনি ১৯৬০ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘মেঘে ঢাকা তারা’ চলচ্চিত্রে সহকারী সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সুবর্ণ রেখা’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেন। পরবর্তীকালে তিনি ‘নতুন পাতা’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনার জন্য বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়া সুর ও সংগীত পরিচালনায় তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো : ত্রিসন্ধ্যায়, যেখানে দাঁড়িয়ে, শ্বেত ময়ূর, তিতাস একটি নদীর নাম, গার্ম হাওয়া, যুক্তি তক্কো আর গপ্পো, অমাবস কি চান্দ। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান ও যামিনী রায়ের ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্রের আবহ সংগীত পরিচালনা করেছেন।
বাহাদুর হোসেন খান ১৯৮৯ সালের ৩ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
