|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উপমহাদেশের সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র মুজীবুর রহমান খাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। প্রখ্যাত এ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক তার বস্তুনিষ্ঠ লেখনী, দক্ষ সম্পাদনা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন মুসলিম সমাজকে জাতীয়তাবাদ ও সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রেস ক্লাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি।
মুজীবুর রহমান খাঁ ১৯১০ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) নেত্রকোনা জেলার উলুয়াটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৩৬ সালে কলকাতার বিখ্যাত সাপ্তাহিক মোহাম্মদীতে যোগদানের মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয়। একই বছরের ৩১ অক্টোবর তিনি বিখ্যাত পত্রিকা দৈনিক আজাদে সহ-সম্পাদক পদে যোগ দেন। দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে ১৯৩৯ সালে তিনি পত্রিকাটির যুগ্ম সম্পাদক পদে উন্নীত হন। দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে দৈনিক আজাদ ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করলে তিনি সেখানেও একই দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মুজীবুর রহমান খাঁ বিভিন্ন প্রগতিশীল সাহিত্য ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি অল বেঙ্গল অ্যান্টিফ্যাসিস্ট রাইটার্স গিল্ডের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি এবং ১৯৪৪ সালে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৪৬ সালে তিনি ভারতের প্রথম বঙ্গীয় গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাকিস্তান আর্টস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক এবং বুলবুল ললিতকলা একাডেমির (বাফা) সহ-সভাপতি ছিলেন।
১৯৫৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় যখন ‘পূর্ব পাকিস্তান প্রেস ক্লাব’ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সর্বসম্মতিক্রমে তিনি এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
সাহিত্যিক হিসাবে মুজীবুর রহমান খাঁ প্রবন্ধ ও মননশীল গদ্য রচনায় স্বতন্ত্র অবদান রেখে গেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে : বিলাতে প্রথম ভারতীয়, পাকিস্তান, ইকনমিক প্রবলেম অব ইস্ট পাকিস্তান, সাহিত্যের সীমানা, সাহিত্য ও সাহিত্যিক, মহানবী।
তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সম্মানজনক পদকে ভূষিত হয়েছেন : সেতারা-ই-কায়েদে আজম (পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত), একুশে পদক (১৯৮০)।
এই মহান গুণী ব্যক্তিত্ব ১৯৮৪ সালের ৫ অক্টোবর ৭৩ বছর বয়সে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
