|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী আবুল হাশিমের মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ৫ অক্টোবর। তিনি ১৯০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাশিয়ারা গ্রামে (কাশেম নগর) জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৮ সালে বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে তিনি গ্র্যাজুয়েট হন। তার পিতা আবুল কাশেম সমসাময়িক বাংলার, বিশেষ করে বর্ধমান জেলার একজন খ্যাতনামা ব্যক্তি ছিলেন। আবুল হাশিম ১৯৩১ সালে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করেন এবং ওই বছরই বর্ধমান জেলা কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন।
পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে আবুল হাশিম ১৯৩৬ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং বর্ধমান থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৩ সালে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সাংগঠনিকভাবে বাংলায় মুসলিম লীগকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রকৃতপক্ষে ১৯৪৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোয় মুসলিম লীগের সাফল্য প্রধানত আবুল হাশিমের গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছিল।
ভারত বিভাগের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক আইনসভার বিরোধী দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৫০ সালে আবুল হাশিম পূর্ববঙ্গে চলে আসেন এবং ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক দলগুলোর মতাদর্শের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে তিনি ‘খিলাফত-ই-রববানী পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ইসলামি আদর্শ বাস্তবে রূপায়িত করাই ছিল এ দলের উদ্দেশ্য। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ দলের সভাপতি ছিলেন। চল্লিশের দশকের শেষদিক থেকে তার দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে এবং পঞ্চাশের দশকে দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু এ দৈহিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি বলিষ্ঠভাবে জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৬০ সালে আবুল হাশিমকে ‘ইসলামিক একাডেমি’র (যেটি বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামে পরিচিত) পরিচালক নিয়োগ করা হয়। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তিনি বেশকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৭৪ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
