নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন
Advertisement
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৮৬০ সালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকার নর্মাল স্কুল থেকে পাশ করে প্রথমে তিনি জলপাইগুড়ির একটি নীলকুঠিতে চাকরি করেন। পরে শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করে তিনি সিরাজগঞ্জের ভাঙ্গাবাড়ি মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়, সলঙ্গা মাইনর স্কুল এবং রাজশাহী জুনিয়র মাদ্রাসায় চাকরি করেন। কিছুদিন তিনি ডাকঘরে পোস্টমাস্টারের দায়িত্বও পালন করেন। সেকালের মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের অহেতুক বৈরী মনোভাব তিনি তীক্ষ্ণভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। অন্যদিকে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পর মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের আচরণও তার দৃষ্টি এড়ায়নি। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা আন্দোলনের ঢেউ তার মনে আলোড়ন তোলে। এ রকম এক প্রেক্ষাপটে তিনি ‘বিলাতী বর্জন রহস্য’ নামক পুস্তিকাটি রচনা করেন। এটি তৎকালীন বিদ্বান মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন নজিবর রহমান। প্রথম সামাজিক উপন্যাস ‘আনোয়ারা’ লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষত এ উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অনুরাগীরা তাকে ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি দেন। তার অন্যান্য উপন্যাস : প্রেমের সমাধি, চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি, পরিণাম, গরীবের মেয়ে, দুনিয়া আর চাই না ও মেহেরুন্নিসা। নজিবর রহমান তার উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
১৯০৬ সালে নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ঢাকায় মুসলিম লীগের যে অধিবেশন বসে, নজিবর রহমান তাতে প্রতিনিধি হিসাবে যোগ দেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। সলঙ্গায় শিক্ষকতা করার সময় স্থানীয় হিন্দু জমিদার গরু জবাই ও গো-মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে এ অধিকারহরণের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তার সংগ্রামের ফলে সলঙ্গায় মুসলমানদের গরু জবাইয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তদুপরি শিক্ষা বিস্তারের মহান কাজে তিনি আজীবন সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৮৯২ সালে তিনি চরবেলতৈল গ্রামে একটি মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন; যা পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বালিকা বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
