ফোন ফেরত চেয়ে সাইবার এজেন্সিকে রিজওয়ানের চিঠি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিজের মোবাইল ফোন ফেরত চেয়ে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) কাছে চিঠি দিয়েছেন ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের ধরন ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। একই সঙ্গে দ্রুত তার মোবাইল ফোনটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
গত ৩১ আগস্ট লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের হারের পরদিন তদন্তের অংশ হিসেবে রিজওয়ানের মোবাইল ফোনটি চেয়ে নেয় এনসিসিআইএ। সে সময় তাকে জানানো হয়েছিল, প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোনটি ফেরত দেওয়া হবে। তবে চার সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফোনটি এখনো এজেন্সির কাছেই রয়েছে।
লাহোর হাইকোর্টে রিজওয়ানের করা পিটিশন খারিজ হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ফোন ফেরত চেয়ে এই চিঠি দিলেন তিনি। আদালত রিজওয়ানকে তদন্তে এজেন্সিকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে অযথা হয়রানি না করতে এনসিসিআইএকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
রিজওয়ানের দাবি, আদালতের ওই নির্দেশের পরও এখন পর্যন্ত এজেন্সির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং ফোন ফেরত দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। চিঠিতে নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে লিখিতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে এজেন্সির কার্যালয়ে গিয়ে সহযোগিতা করতে হলে সেটিও তাকে জানাতে বলেছেন।
চিঠিতে রিজওয়ান উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় তিনি স্বেচ্ছায় নিজের মোবাইল ফোন এজেন্সির কাছে জমা দেন। এ জন্য তাকে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়তে হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তদন্তে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ফোনের পাসওয়ার্ডও এজেন্সিকে দিয়েছেন। তবে তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোন ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক মাসেও সেটি তিনি ফেরত পাননি।
রিজওয়ান চিঠিতে আরও বলেন, স্বেচ্ছায় ফোন ও এর পাসওয়ার্ড দিয়ে তিনি তদন্তে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছেন। এখন এজেন্সির পক্ষ থেকেও তার প্রতি সহযোগিতামূলক আচরণ প্রত্যাশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে তদন্তের প্রকৃতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করার এবং ফোনটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
লর্ডসে পাকিস্তানের হারের পর ইংল্যান্ড সফর থেকে দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক। এরপর এই দুই ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেয় এনসিসিআইএ। আবেদন অনুযায়ী, তদন্তের বিষয় ছিল পাকিস্তানের ক্রিকেটে কথিত অনলাইন কার্যক্রম বা জুয়া-সংক্রান্ত বিষয়।
ইমাম-উল-হক এজেন্সির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও রিজওয়ান আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজেন্সির তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে একই সময়ে এনসিসিআইএর অনুরোধে নিজের মোবাইল ফোন ও পাসওয়ার্ড জমা দেন।
রিজওয়ানের করা রিট আবেদন লাহোর হাইকোর্টে খারিজ হলেও আদালত তাকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এনসিসিআইএকে অযথা হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এখন নিজের ফোন ফেরত চেয়ে রিজওয়ানের পাঠানো চিঠিই এই ঘটনায় সর্বশেষ সংযোজন। তদন্তে সহযোগিতা করার পরও কেন ফোনটি ফেরত দেওয়া হচ্ছে না এবং তদন্তের প্রকৃতি সম্পর্কে তাকে কেন জানানো হয়নি—চিঠিতে মূলত এসব বিষয়ই তুলে ধরেছেন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।

