মেসির বিদায়ে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে আর্জেন্টিনা ফুটবল
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ২০৮তম ও শেষ ম্যাচে গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট করে দলকে জয় উপহার দিয়েছেন কিংবদন্তি এই অধিনায়ক।
৩৯ বছর বয়সে জাতীয় দলকে বিদায় বলা মেসি ২১ বছরের ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে ১২৬ গোল করেছেন। তার নেতৃত্বে দলটি জিতেছে দুটি কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ফুটবলের অর্থনৈতিক উত্থানেও ছিল তার বিশাল অবদান।
গত এক দশকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন মেসি। তার জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বিশ্বজুড়ে নিজেদের ব্র্যান্ড শক্তিশালী করেছে। ২০১৭ সালে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত স্পনসরের সংখ্যা ছিল মাত্র ৬টি, যা বর্তমানে ১০০-এরও বেশি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এএফএর বার্ষিক রাজস্ব এখন প্রায় ১৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
সংস্থাটির বাণিজ্যিক উন্নয়ন বিভাগের প্রধান লিয়ান্দ্রো পিটারসেন স্বীকার করেছেন, এএফএ ব্র্যান্ডের দ্রুত বিকাশে মেসি ছিলেন ‘অসাধারণ গতিবর্ধক’। তার বৈশ্বিক আবেদন আর্জেন্টিনাকে এমন অনেক বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে, যেখানে আগে তাদের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত।
তবে মেসির বিদায়ের পর নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনার ফুটবল। সম্প্রচার মাধ্যম, স্পনসর, টিকিট বিক্রি, জার্সি ও স্মারকপণ্য বিপণন, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই তার উপস্থিতি ছিল বড় আকর্ষণ। ফলে এই খাতগুলোর ওপরও বিদায়ের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অবশ্য এএফএর জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গাও রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলের সাফল্যের সুবাদে সংস্থাটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বোনাস বাবদ এএফএ প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে ২০১৯ কোপা আমেরিকায় তৃতীয় হওয়ার ৮০ লাখ ডলার, ২০২১ কোপা আমেরিকা জয়ের ১ কোটি ডলার, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের ৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, ২০২৪ কোপা আমেরিকার ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
তবে সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মেসিকে ছাড়াই এই বাণিজ্যিক শক্তি ধরে রাখা। ১০০টির বেশি বাণিজ্যিক অংশীদার, শক্তিশালী আন্তর্জাতিক উপস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে বিপুল সমর্থকগোষ্ঠী থাকলেও এএফএকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে, তাদের সবচেয়ে বড় তারকাকে ছাড়াও আর্জেন্টিনা ফুটবল আগের মতোই অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী থাকতে পারে।

-6ac7a0c39bb5a.jpg)