ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবনমনের শঙ্কা কতটা সত্য?
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চেলসির বিপক্ষে ২-০ গোলের হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শনিবারের এই পরাজয়ের পর দলের কোচ মাইকেল ক্যারিক স্বীকার করেছেন, এখন তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো ম্যাচ জেতা।
তবে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—সত্যিই কি অবনমনের ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ক্লাবটি?
ক্যারিকের কাছে অবনমন অবশ্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা নয়। খেলোয়াড়ি জীবনের শুরুর দিকে ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। ২০০২-০৩ মৌসুমে দলটির স্কোয়াডে ডেভিড জেমস, জো কোল, জার্মেইন ডিফো ও ট্রেভর সিনক্লেয়ারের মতো খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের অনেকেই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০টির বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন। তারপরও মৌসুম শেষে অবনমন এড়াতে পারেনি ওয়েস্ট হ্যাম।
সেবার ৪২ পয়েন্ট নিয়েও প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে যেতে হয়েছিল তাদের। ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে অবনমিত কোনো দলের এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে ৯ ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সংগ্রহ মাত্র ৭ পয়েন্ট। এই গতিতে চলতে থাকলে মৌসুম শেষে তাদের পয়েন্ট ৩০-এর নিচে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সর্বশেষ অবনমনের ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে। তখনকার সেই স্মৃতি এখন কেবল ষাটোর্ধ্ব বয়সি সমর্থকদেরই মনে থাকার কথা। প্রচলিত আছে, ম্যানচেস্টার সিটির ডেনিস লয়ের একটি ব্যাকহিল গোল ইউনাইটেডের অবনমনের পথ তৈরি করেছিল। যদিও বাস্তবে তার আগেই দলটির অবনতি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।
১৯৮৬ সালের নভেম্বরের পর থেকে কোনো মৌসুমে ৯ বা তার বেশি ম্যাচ খেলার পর অবনমন অঞ্চলে নামেনি ইউনাইটেড। সেবার রন অ্যাটকিনসনকে বরখাস্ত করার পর স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট পেয়েছিল দলটি।
এরপর থেকে এক মৌসুমে প্রথম ৯ ম্যাচ বা তার বেশি খেলার পর তাদের সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে ১৭তম। চেলসির কাছে হারের পর শনিবার ইউনাইটেড নেমে গিয়েছিল ১৬তম স্থানে। অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফল শেষে তাদের অবস্থান এখন ১৭তম।
পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে সাম্প্রতিক ব্যর্থতায়। চেলসির কাছে হারের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচ জয়হীন রয়েছে ক্যারিকের দল। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমের পর এটিই তাদের সবচেয়ে বাজে জয়হীন ধারাবাহিকতা। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে তাদের একমাত্র জয়টি এসেছিল আগস্টে, ঘরের মাঠে ইপসউইচের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জিতে।
অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে লিগ টেবিলের নিচের দিকে থাকার অভিজ্ঞতা ইউনাইটেডের নতুন নয়। গত মৌসুমে রুবেন আমোরিমের অধীনে ৩৭ ম্যাচ শেষে দলটি ১৬তম স্থানে ছিল। তবে তখন তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা লেস্টারের চেয়ে তাদের ব্যবধান ছিল ১৪ পয়েন্ট। ফলে অবনমনের আশঙ্কা সেভাবে তৈরি হয়নি।
গত মৌসুমে সত্যিকারের অবনমন-ঝুঁকিতে পড়েছিল টটেনহ্যাম। মৌসুমের শেষ চার ম্যাচ বাকি থাকতে তারা ছিল তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে, ওয়েস্ট হ্যামের চেয়ে পিছিয়ে ছিল দুই পয়েন্টে।
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি কতটা রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যারিক বলেন, কয়েকটি ম্যাচ জিতলেই লিগ টেবিলে দ্রুত ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তাই নেতিবাচক পরিস্থিতির দিকে না তাকিয়ে জয় পাওয়ার দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।
ইউনাইটেডের সামনে এখন কঠিন সূচি। আগামী ৮ নভেম্বর ওল্ড ট্রাফোর্ডে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। পরবর্তী সাত ম্যাচের মধ্যে লিভারপুল, নিউক্যাসল ও আর্সেনালের মাঠেও খেলতে হবে দলটিকে।
এদিকে চেলসির কাছে হারের পরও কোচ হিসেবে ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচেও দায়িত্বে থাকবেন তিনি। তবে ক্লাবের ভেতরে কী ধরনের আলোচনা চলছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

