প্রথমবার মহাকাশের কক্ষপথে ২৬ স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্পেসএক্সের তৈরি বিশাল রকেট স্টারশিপ প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মহাকাশযানটি ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়।
সোমবারের এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। তবে মহাকাশযানটির একটি ইঞ্জিন আগেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিশন শেষ করতে হয়েছে।
স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি ১০ ঘণ্টা চলার কথা ছিল। তবে নিচের স্তরের সুপার হেভি বুস্টার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্টারশিপের তিনটি প্রধান ইঞ্জিনের একটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এ কারণে মহাকাশযানটি কক্ষপথে যেতে পারবে না। পরে প্রকৌশলীরা জানান, অন্য ইঞ্জিন ব্যবহার করে কক্ষপথে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর সফলভাবেই কক্ষপথে পৌঁছে স্টারশিপ।
এবারের মিশনটি আগের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটগুলোর চেয়ে আলাদা ছিল। কারণ, প্রথমবারের মতো স্টারশিপে বাস্তব বাণিজ্যিক পেলোড বহন করা হয়েছিল। কক্ষপথে পাঠানো ২৬টি স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইটই ছিল স্টারশিপের প্রথম বাণিজ্যিক পেলোড।
স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ২৬টি স্যাটেলাইটই সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
বুস্টারের অবতরণেও সাফল্য
মেক্সিকো উপসাগরের তীরে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের কাছে স্পেসএক্সের স্টারবেস থেকে স্টারশিপ উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এই যানটির দুটি প্রধান অংশ—সুপার হেভি বুস্টার এবং তার ওপরে থাকা স্টারশিপ মহাকাশযান।
উৎক্ষেপণের পর সুপার হেভি বুস্টারটি স্টারশিপকে মহাকাশে পৌঁছে দেয়। এরপর সেটি ফিরে এসে সমুদ্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করে। তবে নামার সময় বুস্টারের কয়েকটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্পেসএক্স।
অন্যদিকে, স্টারশিপ কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্যাটেলাইটগুলো মোতায়েন করে। পরে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামার চেষ্টা করে মহাকাশযানটি। পানিতে পড়ার সময় এর নিচের অংশে আগুন ধরে যায় এবং পরে এটি এক পাশে কাত হয়ে পড়ে। এই মিশনের পর স্টারশিপটি উদ্ধার করে পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল না।
ভবিষ্যতের চাঁদ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
স্টারশিপকে ভবিষ্যতে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট দ্রুত উৎক্ষেপণ এবং নাসার নভোচারীদের চাঁদে পাঠানোর কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে স্টারশিপের ১৩টি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট হলেও আগের কোনোটিই কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এবার কক্ষপথে পৌঁছানোকে স্টারশিপ কর্মসূচির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ইঞ্জিনের সমস্যা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানও স্টারশিপের কক্ষপথে পৌঁছানোর ঘটনায় স্পেসএক্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি মিশনটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার প্রশংসা করেন।
সূত্র: সামা টিভি

