Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত

উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’

Advertisement

Icon

যুগান্তর রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। রোববার দুপুর ১২টায় যেখানে ঝড়টির কেন্দ্র ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, রাত ৯টায় তা ৭৪ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এ সময়ে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার থেকে দেড়গুণ বেড়ে ১১০ কিলোমিটার হয়েছে। এ শক্তি সঞ্চয় বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে তিন নম্বর ক্যাটাগরির ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এটি। 
রোববার রাতে এটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এটি সাগরের উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘণ্টায় এর গতি গড়ে ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। ২০ মে শেষ রাতে বা ২১ মে সকালে ঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে বাংলাদেশে আঘাত হানবে কিনা, এ বিষয়টি এখনই বলতে চান না আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক যুগান্তরকে বলেন, সাগরে অবস্থানকালে ঘূর্ণিঝড় গতিপথ পরিবর্তন করে। তাছাড়া বাংলাদেশ থেকে এটি বেশ দূরে অবস্থান করছে। এ কারণে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে উড়িষ্যা থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত গোটা উপকূলই এর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত এ ধরনের ঝড় উপকূলের কাছাকাছি আসার ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা আগে প্রভাব পড়ে থাকে। সেই হিসাবে আগামীকাল রাতে বা বুধবার সকালে ঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব পড়তে পারে। তবে ঝড়ের কারণে ইতোমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। এ কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোয় ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। শনিবার রাত পর্যন্ত ছিল দূরবর্তী সতর্ক সংকেত। এর পরিবর্তে স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত জারির অর্থ হচ্ছে- সমুদ্রবন্দর ঘূর্ণিঝড়কবলিত। সেই সঙ্গে বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি। 
তবে বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, যদিও সরকার ঝড়টির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। কিন্তু শেষের দিকে ঘূর্ণিঝড় কবলিতদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতির পরিবর্তে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার। কেননা এখন করোনাকাল চলছে। এ সময়ে আশ্রয় কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই করোনার কথা চিন্তা করে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি আরেকটি বুলেটিন প্রকাশ করেছে বিএমডি। এতে জানিয়েছে, দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি সবচেয়ে বেশি পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। তারপর ঘূর্ণিঝড়ের কাছাকাছি অবস্থান করা সমুদ্রবন্দর হচ্ছে বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্রবন্দর।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি)। সংস্থাটির রোববার রাত ৯টায় প্রকাশিত ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আম্পান রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এছাড়া এটি কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
একই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের টানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ আছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। যাতে অল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান নামটি দিয়েছে থাইল্যান্ড।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবেলা ও সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। রোববার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল উপস্থিত ছিলেন। 
ডা. এনামুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোর সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখার জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যাপক প্রস্তুতি, নৌযান ভিড়ছে তীরে : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব অ্যালার্ট ২ জারি করেছে। রোববার দুপুরে বন্দরের সদস্য জাফর আলমের সভাপতিত্বে বন্দর ভবনে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বেশ কিছু নির্দেশনাও জারি করা হয়। বন্দর চ্যানেলে অবস্থানরত লোকাল জাহাজ ও ছোট ছোট নৌযানগুলোকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর উজানে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়। একইভাবে বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর ইঞ্জিন চালু রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
বরিশালে ব্যাপক প্রস্তুতি : বরিশাল ব্যুরো জানায়, আম্পান মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৫০ মানুষের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী বিগত দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৭৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাকেরগঞ্জ ও গৌরনদী উপজেলার দুটি সাইক্লোন শেল্টারসহ ৩১৪টি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। রোববার বিকালে বরিশাল জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান স্বাক্ষরিত এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

Advertisement

ঘূর্ণিঝড়

Advertisement

আরও পড়ুন

২৪ ঘণ্টায় ৪ প্রাণহানি দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিনশ ছুঁইছুঁই

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিনশ ছুঁইছুঁই

মুক্তায় নজরুলের রুপালি বিপ্লব

মুক্তায় নজরুলের রুপালি বিপ্লব

সচিবালয়ে সক্রিয় সিন্ডিকেট কোম্পানিকে ডিও লেটার প্রতিমন্ত্রী জানেন না

কোম্পানিকে ডিও লেটার প্রতিমন্ত্রী জানেন না

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার আলোর পেছনে ভয়ংকর অপরাধীচক্র

আলোর পেছনে ভয়ংকর অপরাধীচক্র

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম