Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

পুনর্গঠন জটিলতায় দক্ষিণের বিএনপি

যোগ্য ও পরীক্ষিতরা পদবঞ্চিত * জেলায় জেলায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ

Advertisement

Icon

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পুনর্গঠন জটিলতায় দক্ষিণের বিএনপি

Advertisement

বিএনপির তৃণমূলে চলছে পুনর্গঠন। জেলা-উপজেলায় পুরোনো কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্ব আনা হচ্ছে। শুরুর দিকে পুনর্গঠনের এ উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও ক্রমেই হতাশ তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এর পেছনে দুটি কারণ বলছেন তারা। প্রথমত, কেন্দ্রীয় নেতাদের পছন্দের লোকেরা জেলার শীর্ষ পদ পাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, জেলার দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে ইউনিট কমিটি করছেন। ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন ত্যাগী, যোগ্য ও পরীক্ষিতরা। এ নিয়ে বরিশালসহ দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় চলছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নেতারা বলছেন, বিএনপির মতো একটি বড় দলে অসংখ্য যোগ্য নেতা রয়েছেন। তাদের সবাইকে পদ-পদবি দেওয়া সম্ভব নয়।

২২ জানুয়ারি বরিশালের উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষিত হয়। এসব কমিটি থেকে বাদ পড়েন সাবেক মেয়র ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারসহ তার অনুসারীরা। সদ্য সাবেক কমিটির সিংহভাগ সদস্যকে বাইরে রেখে নতুন কমিটি করা নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। কমিটির নানা দোষ-ত্রুটির বিষয়ে কেন্দ্রে বঞ্চিতরা অভিযোগ করে যাচ্ছেন। মহানগরের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতাদের বিবেচনা করা উচিত। মহানগরের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, আহ্বায়ক কমিটির কলেবর ছোট। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের কেউ বাইরে থাকবে না।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বানারীপাড়ার সাত বিএনপি নেতা। তাদের মধ্যে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সরফুদ্দিন সান্টু। জেলা কমিটির আহ্বায়ক মজিবুর রহমান নান্টুর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তারা পদত্যাগ করেন। নান্টুর পালটা অভিযোগ-সভা করতে গিয়ে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। সান্টুর ইচ্ছার বাইরে কোনো কিছু করা যাবে না বলে আমাদের জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো এক ব্যক্তির ইচ্ছায় তো দল চলবে না। তাই উপজেলা ও পৌর কমিটি ভেঙে দিয়েছি।

কিছুদিন আগে বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পৌর কমিটি ভেঙে দিয়েছে জেলা কমিটি। উপজেলা বিএনপির টানা ১৯ বছরের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান বলেন, দলীয় কর্মসূচি পালন করবে কে? দল পরিচালনায় জেলার নেতারা কতটুকু যোগ্যতাসম্পন্ন সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। অবশ্য পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সত্যিকার অর্থেই এখানে একটা পরিবর্তন দরকার। আমরা টানা একক নেতৃত্বের শিকার হচ্ছি। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিল সিকদার বলেন, এখানে দলের অফিস রয়েছে। অথচ সেখানে আসেন না আবুল হোসেন। তিনি তার নিজের বাসায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে বিএনপির অফিস খুলে বসেছেন। তার ইচ্ছার বাইরে দলে কিছুই করা যায় না। অভিযোগ সম্পর্কে আবুল হোসেন বলেন, ২০০৩ সালে বরিশাল সফরকালে তারেক রহমান আমার বাসভবনের ওই অফিসটি উদ্বোধন করেন।

কমিটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি জটিলতা চলছে বরগুনায়। নিয়মিত সেখানে চলছে কমিটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার জেলার বেতাগী উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ মামুনের কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়েছে বিএনপির একাংশ। এর আগে আমতলী উপজেলাতেও বিক্ষোভ করেছে কমিটি বিরোধীরা। পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, জেলার আহ্বায়ক কমিটিতে জায়গা পাননি ত্যাগী-পরীক্ষিতরা। আমি চারবারের ইউপি চেয়ারম্যান। অথচ একজন ইউপি সদস্যকে আহ্বায়ক করে আমাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ জন্য আমি পদত্যাগ করেছি। আমতলী উপজেলা কমিটি ঘোষণার পর সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে আহ্বায়কের নেতৃত্বে মিছিল হয়েছে।

বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাজাহান কবির বলেন, টাকার বিনিময়ে উপজেলা কমিটি দিচ্ছে জেলা বিএনপি। অযোগ্য নেতাদের দিয়ে জেলা কমিটি করার কারণে আজ এ অবস্থা। এ সম্পর্কে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টিটু বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই কমিটি হচ্ছে। টাকা লেনদেনের অভিযোগ মিথ্যা।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আঁতাত করে চলার অভিযোগ পুরোনো। দলের শীর্ষ নেতাদের কখনো জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হতে হয় না। মামলা হলেও সহজে জামিন পেয়ে যান। অথচ তৃণমূলকর্মীদের অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে হয়। পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মালেক চতুর্থবারের মতো মেয়র হয়েছেন। প্রথমবার ভোটে নির্বাচিত হলেও তিনবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি মেয়র হয়েছেন। আর তিনবারই বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

ঝালকাঠী ও পটুয়াখালী জেলাতেও নয়া কমিটি গঠন নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। পুরো বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, বিএনপির মতো একটি বড় দলে এ ধরনের সমস্যা থাকা খুবই স্বাভাবিক। এখানে তো যোগ্য লোকের অভাব নেই। কিন্তু সেই তুলনায় পদের সংখ্যা সামান্য। আশা করছি পূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলো হওয়ার পর অনেক বেশি নেতাকর্মীকে সেখানে জায়গা দেওয়া যাবে।

Advertisement

বিএনপি বরিশাল

Advertisement

আরও পড়ুন

ডিজিটাল ফরেনসিক আলামত পরীক্ষা থমকে আছে হাজারো মামলার তদন্ত

থমকে আছে হাজারো মামলার তদন্ত

কলমাকান্দায় স্বাবলম্বী শতাধিক পরিবার জামদানির বুননে নতুন স্বপ্ন সীমান্তে

জামদানির বুননে নতুন স্বপ্ন সীমান্তে

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থা সংস্কারেও মিলছে না সুফল নেপথ্যে পাথরবাহী ট্রাক

সংস্কারেও মিলছে না সুফল নেপথ্যে পাথরবাহী ট্রাক

গোলাপবাগ মাঠ এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানা

গোলাপবাগ মাঠ এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম