Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

গোলাপবাগ মাঠ এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানা

Advertisement

Icon

যাত্রাবাড়ী (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ দশমিক ৫২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত গোলাপবাগ খেলার মাঠ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধানী মাঠটি ধলপুর, মানিকনগর, পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, গোপীবাগ, পশ্চিম গোলাপবাগসহ স্থানীয় শিশু-কিশোর, যুবক এবং বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষদের একমাত্র খেলার মাঠ ও হাঁটার স্থান। কিন্তু দীর্ঘদিন দেখভালের অভাবে মাঠটি শিশুদের খেলাধুলা বা বড়দের ব্যয়াম করার জন্য এখন আর নিরাপদ অবস্থায় নেই।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, মাঠে প্রবেশের জন্য চারটি গেট রয়েছে, যার সবগুলোই দিনরাত খোলা থাকে। মাঠের ৬৪টি বৈদ্যুতিক বাতির অধিকাংশই নষ্ট। ফলে সন্ধ্যা হলেই মাঠে নামে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাঠ দেখভাল করার জন্য নেই কোনো জনবল। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত ১০টার পর মাঠে শুরু হয় মাদকসেবন ও বেচাকেনা। গভীররাতে চলে অসামাজিক কর্মকাণ্ডও।

গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, এই মাঠটি দখলমুক্ত করতে আমরা আন্দোলন করেছি। দেখভালের অভাবে মাঠের অনেক কিছুই নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকায় সাত লাখ লোকের একমাত্র মাঠ এটি। সিটি করপোরেশনের অবহেলার কারণে কিশোর গ্যাং ও মাদকের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে গোলাপবাগ মাঠ।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বিগত সরকারের সময় মাঠটিকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদার ৬০-৭০ ভাগ কাজ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক কিছুই বর্তমানে মাঠে অনুপস্থিত। তবে মাঠের পশ্চিম পাশে দুতলা ব্যবসায়িক ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনে ৪৩টি দোকান রয়েছে। তার মধ্যে ৩৫টি দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভবনে রয়েছে ব্যয়ামাগার, ভিআইপি গ্যালারি, স্টোররুম, বিশ্রামাগার, ক্লাব অফিস ও গ্যালারি। এসবের কিছুই ব্যবহৃত না হওয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে একটি কক্ষে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। মাঠে রয়েছে ক্রিকেট ও ফুটবল এবং সম্মিলিত খেলার মাঠ ও স্কেটিং রিঙ্ক। কিশোরদের জন্য রয়েছে বাস্কেটবল মাঠ, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, টেবিল টেনিস। তবে এসবের প্রয়োজনীয় খেলার সামগ্রী নেই। এতে খেলাধুলা ও বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা।

এছাড়া মাঠের চারপাশে রয়েছে ওয়াকওয়ে। মাঠের পূর্বপাশে শিশুদের প্লেজোনের খেলনার ভাঙা অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে এখন আর শিশুরা খেলতে আসে না। বাস্কেটবল মাঠের চারপাশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে থাকে।

এছাড়া মাঠের পূর্ব-উত্তর পাশে রয়েছে লাইব্রেরি ভবন। লাইব্রেরিতে নেই কোনো বই, রয়েছে বিশাল এক গ্যালারি। ভবনটি নির্মাণের পর থেকে কোনো কাজেই ব্যবহৃত হয়নি। বর্তমানে ভবনের কক্ষগুলোতে এলাকার লোকজন বসে আড্ডা দেন।

৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বাদল সর্দার বলেন, লোকবল না থাকায় মাঠটি এখন অরক্ষিত। অনেক মালামাল নষ্ট ও চুরি হয়ে যাচ্ছে। মাঠটি দেখভালের জন্য সিটি করপোরেশন থেকে লোক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি প্রয়োজন। অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ডিজিটাল ফরেনসিক আলামত পরীক্ষা থমকে আছে হাজারো মামলার তদন্ত

থমকে আছে হাজারো মামলার তদন্ত

কলমাকান্দায় স্বাবলম্বী শতাধিক পরিবার জামদানির বুননে নতুন স্বপ্ন সীমান্তে

জামদানির বুননে নতুন স্বপ্ন সীমান্তে

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থা সংস্কারেও মিলছে না সুফল নেপথ্যে পাথরবাহী ট্রাক

সংস্কারেও মিলছে না সুফল নেপথ্যে পাথরবাহী ট্রাক

গোলাপবাগ মাঠ এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানা

গোলাপবাগ মাঠ এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম