সিপিডির সংলাপে ভূমিমন্ত্রী
চল্লিশ বছর ভূমির জন্য নতুন কাজ করতে হবে না
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় পদ্ধতিগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যিনি এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হবেন তার কাজ হবে শুধু পদ্ধতিগুলো ফলোআপ করা। কারণ ভূমির জন্য আগামী ত্রিশ-চল্লিশ বছর আর কোনো নতুন কাজই করতে হবে না। আমি মানুষ এবং কাজ করলে ভুল হবেই। সেই ক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা চাই। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ভূমি ব্যবস্থাপনায় ‘সাম্প্রতিক উদ্যোগ ও নাগরিক অধিকার’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ভূমি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, ট্রান্সফারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এটুআই প্রকল্পের ন্যাশনাল পোর্টাল ইমপ্লিমেন্টেশন স্পেশালিস্ট উপসচিব মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মাহফুজ বিন ইউসুফ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এর প্রধান সমন্বয়ক রফিক আহমেদ সিরাজী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। আর মাত্র সাত মাস সরকারের দায়িত্বে আছেন জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, নয় বছর প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রীর দায়িত্বে আছি। কিন্তু যতটা সম্ভব দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করেছি। তবে অনেক কাজ এখনো করা হয়নি। যে সময় হাতে আছে তা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে হাতে নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই। দেশের বাস্তবতায় ডিজিটাল সাক্ষরতা এখনো শতভাগ নয়। এজন্য সবার পক্ষে অনলাইনে ডিজিটাল সার্ভিস গ্রহণ সম্ভব নয়। এজন্য সবদিক বিবেচনা করে, সবার কথা মাথায় রেখে আমরা ভূমি সেবা এজেন্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভূমি ভবনে একটি নাগরিক সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। কলসেন্টার ছাড়াও এসব সেবা কেন্দ্রে নাগরিকরা সরাসরি গিয়ে ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া প্রাইভেট এজেন্ট কার্যক্রম মনিটরের জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং উপজেলা ও জেলা ভিত্তিক নাগরিক কমিটি করার কথাও বিবেচনায় রয়েছে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমরা ভূমিসেবা পদ্ধতি এমনভাবে উন্নয়ন করছি যেন দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। উন্নত দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সিস্টেমের কারণে ওইসব দেশে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কেউ দুর্নীতি করতে পারছে না। মন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কোন উপজেলায়, কোন সার্কেলে কতদিনে ফাইল নিষ্পত্তি হচ্ছে-আমরা তা দেখছি এবং ফিডব্যাক নিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে মনিটরিং কার্যক্রম অধিক নিবিড় করা হবে। মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের পারফর্মিং মিনিস্ট্রি’। স্মার্ট মিনিস্ট্রির কথা মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি। মানুষ ভূমি সেবা ডিজিটালাইজেশনের সুফল পাওয়া শুরু করেছে।
মুখ্য বক্তা ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ১ লাখ ৩৮ হাজার ম্যাপ ডিজিটাইজ করাসহ স্যাটেলাইট ইমেজ ক্রয় করা হচ্ছে। এ ম্যাপের ওপর স্যাটেলাইট ইমেজ বসিয়ে প্লটভিত্তিক জমির শ্রেণির একটি তথ্যভান্ডার তৈরি হচ্ছে। প্রায় ১০ হাজার ডিজিটাল মৌজা ম্যাপ ই-নামজারি সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। নামজারির সঙ্গে সঙ্গে এ ডিজিটাল ম্যাপ ও খতিয়ান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধিত হতে থাকবে। ভূমি সেবা অ্যাপ থেকে নাগরিকরা তাদের জমির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ, অবস্থান ও পরিমাপ তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যাবেন।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় সংস্কার কার্যক্রম আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি হয়েছে। তিনি একে ইন্সপায়ারিং ইনিশিয়েটিভ (অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ) হিসাবে বর্ণনা করে বলেন, আরও সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার না করতে পারে। ভূমি প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতি এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নেওয়া জরুরি বলে মত দেন তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ভালো যে কোনো কাজে নাগরিক সমাজকে পাশে পাবে সরকার। ভূমি নাগরিকের জন্মগত অধিকার। এ অধিকার বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
