মেডিকেলে ভর্তির প্রশ্নফাঁস চক্র
jugantor
মেডিকেলে ভর্তির প্রশ্নফাঁস চক্র
জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন

  সম্পাদকীয়  

১৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের প্রধান জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া মুন্নুর ৩৩ ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি টাকা, তার স্ত্রীর ১৪ ব্যাংক হিসাবে পাঁচ কোটি এবং সহযোগী ময়েজ উদ্দিনের ৩৯ ব্যাংক হিসাবে ১৯ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মুন্নু একাধিক চিকিৎসক, ব্যাংক কর্মকর্তা, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের হিসাব কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠন করে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিক্রির কাজে জড়িত ছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত বছরের ২৪ আগস্ট মুন্নুসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে একটি মামলা করা হয়। এ মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি তদন্ত করছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট। তদন্ত শেষে জড়িতদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। আমরা মনে করি, কেবল সম্পদ বাজেয়াপ্ত নয়; প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর ওপথে পা বাড়ানোর সাহস না পায়।

২০০৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মেডিকেল, ডেন্টাল ও আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দুর্বৃত্ত দল ভর্তিচ্ছুদের কাছে তা চড়া দামে বিক্রি করলেও বিষয়টি আরও আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাদের নজরে কেন এলো না, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শুরুতেই সংঘবদ্ধ এ প্রশ্নফাঁস চক্রকে গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনা গেলে বছরের পর বছর ধরে জাতির মেধা হননকারী এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতো না, তা বলাই বাহুল্য। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে আমরা মূলত জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছি। ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটাই উপায়-যে কোনো মূল্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা। বিসিএস থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, এমনকি স্কুল পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আমাদের জন্য লজ্জা ও বেদনার। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বেকারত্বের যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরীহ ও সৎ চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যেমন তামাশা করা হচ্ছে, তেমনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা ধ্বংসের বন্দোবস্তও পাকা করা হচ্ছে। এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করব, এরপর দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আর একটি ঘটনাও ঘটবে না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী ও তৎপর হবে, এটাই প্রত্যাশা।

মেডিকেলে ভর্তির প্রশ্নফাঁস চক্র

জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন
 সম্পাদকীয় 
১৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের প্রধান জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া মুন্নুর ৩৩ ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি টাকা, তার স্ত্রীর ১৪ ব্যাংক হিসাবে পাঁচ কোটি এবং সহযোগী ময়েজ উদ্দিনের ৩৯ ব্যাংক হিসাবে ১৯ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মুন্নু একাধিক চিকিৎসক, ব্যাংক কর্মকর্তা, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের হিসাব কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠন করে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিক্রির কাজে জড়িত ছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত বছরের ২৪ আগস্ট মুন্নুসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে একটি মামলা করা হয়। এ মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি তদন্ত করছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট। তদন্ত শেষে জড়িতদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। আমরা মনে করি, কেবল সম্পদ বাজেয়াপ্ত নয়; প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর ওপথে পা বাড়ানোর সাহস না পায়।

২০০৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মেডিকেল, ডেন্টাল ও আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দুর্বৃত্ত দল ভর্তিচ্ছুদের কাছে তা চড়া দামে বিক্রি করলেও বিষয়টি আরও আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাদের নজরে কেন এলো না, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শুরুতেই সংঘবদ্ধ এ প্রশ্নফাঁস চক্রকে গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনা গেলে বছরের পর বছর ধরে জাতির মেধা হননকারী এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতো না, তা বলাই বাহুল্য। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে আমরা মূলত জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছি। ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটাই উপায়-যে কোনো মূল্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা। বিসিএস থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, এমনকি স্কুল পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আমাদের জন্য লজ্জা ও বেদনার। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বেকারত্বের যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরীহ ও সৎ চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যেমন তামাশা করা হচ্ছে, তেমনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা ধ্বংসের বন্দোবস্তও পাকা করা হচ্ছে। এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করব, এরপর দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আর একটি ঘটনাও ঘটবে না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী ও তৎপর হবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন