শিথিল হচ্ছে বিধিনিষেধ
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।
মৃত্যু সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে একসময় হয়তো পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এমনিতেই বর্তমানে করোনা রোগীদের সামাল দিতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিমশিম খাচ্ছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে অবস্থা কী দাঁড়াবে, তা ভেবে উদ্বিগ্ন দেশবাসী।
করোনা পরিস্থিতির যখন এমনই অবস্থা, তখন চলমান কঠোর বিধিনিষেধ আগামীকাল থেকে শিথিল হতে যাচ্ছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে বাস, ট্রেন। খুলবে শপিংমল, দোকানপাট।
রাজধানীসহ সারা দেশে বসবে পশুর হাট। ২৩ জুলাই থেকে আবারও শুরু হবে কঠোর বিধিনিষেধ। কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টিতে সাধারণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই উচিত ছিল, কারণ ঈদ উপলক্ষ্যে পশু কুরবানিসহ নানা ধরনের অর্থনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সুযোগ থাকা উচিত।
আবার অনেকে বলছেন, করোনা সংক্রমণের এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। তাদের বক্তব্য, এতে করোনা সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে। আমাদের বক্তব্য হলো, কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যেতে পারে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি পালনের মাধ্যমে। আমরা লক্ষ করছি, কঠোর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও অনেকে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা দূরের কথা, অনেকে মুখে মাস্ক পর্যন্ত পরছেন না। আমাদের আশঙ্কা, বিধিনিষেধ শিথিল হলে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি হয়তো নতুন মাত্রা পাবে, অর্থাৎ আরও বেশি পরিমাণে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হবে। এ আশঙ্কা যাতে সত্যে পরিণত না হয়, সেদিকে আন্তরিক থাকতে হবে সমগ্র দেশবাসীকে।
গণপরিবহণ খুলে দেওয়ার ফলে বিপুলসংখ্যক রাজধানীবাসী নিশ্চয়ই ঈদ উদযাপন করতে গ্রামমুখী হবেন। তাদের এই ঈদযাত্রায় স্বাস্থ্যবিধি পালিত না হলে পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানো যাবে না। তাই আমরা বলব, মুখে মাস্ক পরে ও গণপরিবহণে যাত্রার সব নিয়মকানুন মেনেই সবাইকে ঘরমুখী হতে হবে।
গত ঈদুল ফিতরের দৃশ্য যেন এবার দেখতে না হয় আমাদের। পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও অতি গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর ঈদুল আজহায় পশুর হাটগুলোয় যে চিত্র দেখা গেছে, এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সবাইকে।
সমগ্র জাতি আজ এক দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থার অবসান কবে হবে, কেউ জানে না। আগামী দিনগুলোয় করোনা রোগীদের সেবা দিতে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা সফল হবে, সেটিও অনিশ্চিত। তাই আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে- প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। যতটা সম্ভব আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে করোনা সংক্রমণ। আর এজন্য যা দরকার, তা হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। মনে রাখতে হবে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়। অদৃষ্টবাদের কাছে নিজেদের সমর্পণ করলে এই দুর্যোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না।
