Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন

Advertisement

দেশে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হওয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ‘ইনস্টলেশন অফ সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ শীর্ষক প্রকল্পটির ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থাৎ তিন বছরে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যয়বৃদ্ধি ছাড়া মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যেও শেষ হয়নি কাজ। ফলে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতেও কাজ শেষ হবে না বলে এখন তৃতীয় সংশোধনীতে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্বভাবতই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ সময়ের মধ্যেও প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে তো? যদি শেষ হয়ও, তাহলেও বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ১৮৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, তিন বছরের প্রকল্প ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও গত বছরের জুন পর্যন্ত কাজের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৬৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

আর্থিক অগ্রগতি আরও কম-৫৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা কাজের ধীরগতির জন্য করোনা মহামারির অজুহাত দিচ্ছেন। তবে এ অজুহাত ধোপে টেকে না। কারণ দেশে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার আগেই প্রকল্পের মেয়াদ এক দফা বাড়ানো হয়েছিল।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না কেন, এর কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতঃপূর্বে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশকিছু বাধা চিহ্নিত করেছিল। এগুলো হলো-সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, অর্থছাড়ে বিলম্ব, দরপত্র মূল্যায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ, দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, ঠিকাদারদের পেশাদারত্বের অভাব, ভৌত নির্মাণ কাজে ধীরগতি, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে দ্রব্যের মান ও মূল্য নির্ধারণে অদূরদর্শিতা ইত্যাদি।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট কাজে দক্ষ হন না। অবশ্য এর বাইরে আরও নানারকম কারসাজি থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেমন সম্ভব হয় না, তেমনি প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

কোনো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে অহেতুক ব্যয় যেমন হ্রাস পায়, তেমনি হ্রাস পায় জনদুর্ভোগও। আমরা মনে করি, কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার বিষয়টিও নিশ্চিত করা উচিত।

 

Advertisement

প্রকল্প বাস্তবায়ন ধীরগতি

Advertisement

আরও পড়ুন

টিকে থাকার লড়াই

টিকে থাকার লড়াই

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

কঠিন সময়ে অর্থনীতি

কঠিন সময়ে অর্থনীতি

বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার নিম্নমান

বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার নিম্নমান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম