Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা

ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন ভাঙা যাবে না

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা

Advertisement

সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের অন্যতম হলো, এখন থেকে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রাধিকারের বাইরে বিশেষ ট্রাফিক সুবিধা নিতে পারবেন না।

বৈঠকে বলা হয়, কেউ এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি এ ধরনের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দায়িত্ব পালন করবে। বলা বাহুল্য, উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তার চলাফেরার সময় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। রাজধানীবাসী এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেখে ত্যক্তবিরক্তও বটে।

আমরা জেনে খুশি হয়েছি যে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রাজধানীতে চলাচলের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে বৈঠক থেকে সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেসব কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত মানবেন না, তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে গোপন প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়েছে। যারা সিভিল সার্ভিসে আছেন, তাদের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে এবং দপ্তর-সংস্থার ক্ষেত্রে দপ্তরপ্রধানদের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

তবে দপ্তর-সংস্থার প্রধানরা নিজেরাই এ সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিশেষ সুবিধা নিলে তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট হবে সরকারের উচ্চপর্যায়ে। মোট কথা, প্রাধিকারের বাইরে কেউই চলাচলের সময় স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থার ব্যত্যয় ঘটাতে পারবেন না। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয়ে বৈঠকে আলোকপাত করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, শুধু ট্রাফিক সুবিধার অপব্যবহার নয়, একশ্রেণির পদস্থ কর্মকর্তা চলাচলের সময় প্রাধিকারের বাইরে প্রটোকলের জন্য অতিরিক্ত গাড়িও ব্যবহার করেন। এটাও কোনোভাবে গ্রহণ করা হবে না মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রটোকলের নামে যদি কেউ বেশি গাড়ি ব্যবহার করেন, তাহলে সেটি বড় ধরনের অসদাচরণ হিসাবে গণ্য হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাধিকারের বাইরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশেষ ট্রাফিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা শুধু ইতিবাচকই নয়, গণমুখীও বটে। আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, কিছু কিছু দপ্তর বা সংস্থার প্রধানদের গাড়ি সামান্য সময়ও সিগন্যালে আটকে থাকতে চায় না। তাদের প্রটোকলে থাকা গাড়ি থেকে সদস্যরা নেমে এসে ট্রাফিকে দায়িত্বরতদের তাগিদ দিতে থাকেন। এ প্রবণতা গোটা ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার শামিল।

এমনিতেই রাজধানীর সাধারণ মানুষ যানজটে নাকাল, তার ওপর একশ্রেণির কর্মকর্তা যদি ট্রাফিক আইন ভেঙে সিগন্যাল পার হতে চান অথবা উলটোপথে যাত্রা করেন, তাহলে মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রাফিক ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সর্বসাধারণকে সেবা দেওয়া। এই সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে, তা তিনি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন। আমরা মন্ত্রিসভা বিভাগে অনুষ্ঠিত সভার প্রতিটি সিদ্ধান্ত কার্যকর দেখতে চাই।

Advertisement

রাজধানী ট্রাফিক ব্যবস্থা

Advertisement

আরও পড়ুন

বিনিয়োগ সংকটে স্থবির অর্থনীতি

বিনিয়োগ সংকটে স্থবির অর্থনীতি

নদীভাঙন রোধ ও ভূখণ্ড রক্ষা

নদীভাঙন রোধ ও ভূখণ্ড রক্ষা

মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

অপমৃত্যুই কি নিয়তি?

অপমৃত্যুই কি নিয়তি?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম