নদীভাঙন রোধ ও ভূখণ্ড রক্ষা
প্রয়োজন টেকসই সমাধান
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নদী। অথচ এই নদীই যেন বহু মানুষের জন্য সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদী দখল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পলি জমে নদী-খাল ভরাট হওয়ার কারণে অব্যাহত নদীভাঙনে দেশের নদী উপকূলীয় এলাকার ভূখণ্ড ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে। বিস্তীর্ণ জনপদ ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে নদীতে। বাস্তুচ্যুত হয়ে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর ফেলছে বিরূপ প্রভাব। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নদীভাঙন রোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নদী-খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা সময়োপযোগী।
তবে নদীভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকাতে প্রয়োজন বহুমুখী ও সুদূরপ্রসারী কৌশল। প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদি ও বড় প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসাবে জিও ব্যাগ ও বাঁশের বান্ডলিং পদ্ধতির সঠিক ও কার্যকর প্রয়োগ জরুরি। দ্বিতীয়ত, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিপুল পরিমাণ জমি অবৈধ দখলে থাকায় নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি সিএস ও আরএস রেকর্ড যাচাই করে নদী ও খালের সীমানা পুনরুদ্ধার করতে হবে, যাতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত না হয়। তৃতীয়ত, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। অপরিকল্পিত বাঁধ ও অকার্যকর স্লুইসগেটের কারণে অনেক এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে তোলা বালু বা পলি যেন কৃষিজমিতে ফেলে ফসলের ক্ষতি না করা হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মতো বিলুপ্তপ্রায় দ্বীপ ও উপকূলীয় জনপদ রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ জরুরি। চতুর্থত, কৌশলগত জলবায়ু ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রকল্পের ধীরগতি ও দুর্নীতির কারণে যেন সরকারি অর্থের অপচয় না হয়। ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার জিআইএসভিত্তিক মানচিত্র ও ডেটাবেজ তৈরির যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড এবং মানুষের ভিটেমাটি রক্ষায় সরকার দ্রুত ও সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।
