হুল ফোটানোর ভয় জীবন মশাময়!
সিরিজ জয় এবং মশা সমাচার
মাইনষের রক্তে আগের মতো স্বাদ নাই! * থাকব ক্যামনে! ভেজাল খাইলে কি আর স্বাদ থাকে!
Advertisement
মোঃ রায়হান কবির
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকাবাসীর অবস্থা হয়েছে জলে কুমির ডাঙায় বাঘের মতো! কারণ করোনার জন্য কঠোর লকডাউনে এখন বেশিরভাগ নগরবাসীকে ঘরেই শুয়ে-বসে সময় কাটাতে হচ্ছে। আর ঘরে থাকার নানা যন্ত্রণার মধ্যে একটি হচ্ছে মশার কামড়। এটা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় নাই।
চব্বিশ ঘণ্টা তো আর মশারির ভেতর থাকা যায় না। ওদিকে বাইরে গেলে করোনা সংক্রমণের আতঙ্ক। সব মিলিয়ে উভয় সংকট অবস্থা! এদিকে ডেঙ্গি সিজনে (বর্ষাকালে) সাধারণত মশাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চললেও এবার চলছে মডেলদের বিরুদ্ধে অভিযান! ফলে মশারা খানিকটা সুবিধাজনক অবস্থাতেই আছে!
এমনিতেই আমরা একটা পেলে আরেকটা ভুলে যাই। মানে সমস্যা কিংবা সংবাদ। তখন সামনে যেটা থাকে বা যার চমক বেশি আমরা সেটাকেই লুফে নিই। গত দু’বছর ধরে বিশ্বজুড়ে করোনা রাজত্ব করছে। ফলে অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা চোখের আড়ালে চলে গেছে। আমাদের দেশের একটি কমন সমস্যা ডেঙ্গি। বিশেষ করে বর্ষাকালে এর প্রকোপ বাড়ে। তাই প্রতি বর্ষায় মশার বিরুদ্ধে কিছু না কিছু আমরা করতে দেখি। কিন্তু এবার ডেঙ্গির প্রকোপ গতবারের এ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার পরও ডেঙ্গু নিয়ে আমরা যেন খানিকটা উদাসীন! বরং আমরা থাকি চমকের অপেক্ষায়। তাই বাসায় বসে টিভি সেট কিংবা স্মার্টফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকি মডেলদের বিরুদ্ধে চলা কঠোর অভিযানের সংবাদ দেখতে, সেই এডিস মশার কামড় খেতে খেতেই!
করোনা এসে দৃশ্যপট থেকে ডেঙ্গিকে সরিয়ে দিলেও পরোক্ষভাবে ডেঙ্গি ছড়াতে সাহায্যই করছে! প্রথমত সবার মনোযোগ এখন করোনার দিকে। দ্বিতীয়ত মানুষের নতুন ব্যবহার্য বস্তু ‘মাস্ক’। এখন নগরবাসীর মাস্ক পরার অভ্যাস কিছুটা হলেও বেড়েছে। আবার মাস্ক ব্যবহার করে তা যত্রতত্র ফেলে রেখেও কিন্তু মশার বিস্তার বাড়াচ্ছে। কেননা এ পরিত্যক্ত মাস্কেও পানি জমার আশঙ্কা আছে। ফলে মাস্ক ব্যবহার করেই জানালা কিংবা বারান্দা দিয়ে ফেলে দিলে তা বাড়ির কার্নিশে কিংবা দুই বাড়ির মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় পড়ে কিন্তু মশার জন্যই বসতি সৃষ্টি করছে। সুতরাং গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ার কারণ হচ্ছে গতবারের তুলনায় এ বছর আমরা বাড়ির জানালা দিয়ে ফেলার মতো ময়লা একটা বেশি পেয়েছি, যা মশার বংশবিস্তারে সহায়তা করে। আমাদের অভ্যাস জানালা দিয়ে ফেলার, তা সেটা চিপসের খালি প্যাকেটই হোক কিংবা মাস্ক। আর অপেক্ষায় থাকি কবে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মী এসে আমার অপকর্ম পরিষ্কার করবে!
মশা দমন যাদের কাজ তারা বোধহয় মশাকে কথা শোনাতে পারেন না। মশার জন্য তাদের লাখ লাখ পরিকল্পনা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায়। কখনো ছিটানো ওষুধের কার্যক্ষমতা কম থাকে তো কখনো কখনো ওষুধই কম পড়ে যায়। এভাবেই চলে মশার বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ। অবশ্য এ যুদ্ধে জয় আমাদের হাতের নাগালে এসেও ছুটে গেল! অল্পের জন্য মশাকে হারানোর সুযোগ নষ্ট হয়ে গেল। ভাবছেন কীভাবে?
করোনা মহামারির এ সময়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতিই বদলে গেছে। তাই এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হলে মানতে হয় অনেক বিধিনিষেধ। আমাদের দেশে যেহেতু করোনা সংক্রমণ হচ্ছে উচ্চহারে, তাই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর চাপিয়ে দেয় শর্তের বোঝা। এটা করা যাবে না তো ওটা করা যাবে না। এর সবই ছিল করোনাকেন্দ্রিক। ওই যে শুরুতেই বলেছিলাম, আমরা সবাই-ই শুধু কারেন্ট ইস্যু বা চমক নিয়েই ভাবি। অস্ট্রেলিয়াও তাই তাদের শর্তের তালিকায় শুধু করোনাকেই অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
তারা কি আর জানে, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানির মতো মশাও এখন ঐতিহ্য বহন করে? এটা ঠিক কিছু কিছু মশা ডেঙ্গির জীবাণুও বহন করে। সে যাই হোক, অস্ট্রেলিয়ার মাথায় যদি করোনার সঙ্গে ডেঙ্গিও থাকত, তাহলে নগরবাসী অন্তত সিরিজ চলাকালীন হলেও মশামুক্ত নগর পেত! তাই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় পেলেও মশাদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়াটা অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়ে গেল! কারণ, শোনা যায় বিসিবি নাকি অস্ট্রেলিয়ার কোনো শর্তই অপূর্ণ রাখেনি। সুতরাং বুঝতেই পারছেন অস্ট্রেলিয়া দল যদি একবার বলত ঢাকায় আমরা কোনো মশা দেখতে চাই না, তাহলে মশা মারার ওষুধ কিংবা কয়েলের বিলবোর্ড থেকেও হয়তো মশার চিহ্ন সরিয়ে ফেলত বিসিবি!
এখন আশা, সামনেই নিউজিল্যান্ড আসছে। তারা আবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী। এখন প্রতিবেশী থেকে যদি কিছু শিখে তারাও শর্তের মালা দেয়, আর সেই মালায় যদি মশা থাকে তবেই ঢাকাবাসীর মশা থেকে মুক্তি মেলার সম্ভাবনা আছে! তা না হলে ক্রিকেট খেলায় সিরিজ বাংলাদেশ জিতলেও আমাদের শরীরে ডেঙ্গির জন্য সিরিঞ্জ ঠিকই পুশ করতে হবে!
