Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এখনই বন্ধ হচ্ছে না

পৃথক একটি ইউনিট রেখে সাধারণ রোগীদের সেবা কার্যক্রম চালু করা হতে পারে

Advertisement

Icon

জাহিদ হাসান

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এখনই বন্ধ হচ্ছে না

Advertisement

দেশে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ পেরিয়ে ভাইরাসটির দাপট কমতে শুরু করলেও কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো এখনই বন্ধ হচ্ছে না। সংক্রমণের নিম্নমুখী পরিস্থিতি আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করে সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রমের কলেবর বাড়ানো হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও রাজধানীর একাধিক কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে এমন তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. ফরিদ উদ্দীন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, দেশে প্রায় দুই বছর ধরে চলা করোনা কখনো ঊর্ধ্বগামী কখনো নিম্নগামী হয়েছে। ইতোমধ্যে সংক্রমণের তিনটি ঢেউ পার হয়েছে। মাঝখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসছে কোভিড হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। যা এখনো বহাল রয়েছে। ওমিক্রনের কারণে তৃতীয় ঢেউ শুরু হলে সংক্রমণ বাড়তে থাকে এবং তখন হাসপাতালগুলোতে শুধু করোনা আক্রান্তদেরই সেবা দেওয়া হয়। এখন সংক্রামণ ফের নিম্নমুখী। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হার সাড়ে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

ডা. ফরিদ উদ্দীন মিয়া আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী টানা দুই সপ্তাহ দৈনিক শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যায়। ফলে ভাইরাসটির চলমান নিম্নগামী পরিস্থিতি আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো পৃথক একটি ইউনিট রেখে সাধারণ রোগীদের সেবা কার্যক্রম চালু করা হতে পারে। প্রেষণে থাকা চিকিৎসক-নার্সদের আগের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক কর্নেল নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, তাদের হাসপাতালটি কোভিড ডেডিকেটেড হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অন্য সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। মাঝখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বহির্বিভাগে সাধারণ রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে তৃতীয় ঢেউ আসায় শুধু করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছিল। এখন করোনা সংক্রমণ কমতে থাকায় নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জরুরি বিভাগে দৈনিক ৩০০ জনের মতো রোগী আসত এবং প্রায় আড়াইশ জনের মতো ভর্তি হতো। বহির্বিভাগে ৩০০ জন রোগী সেবা নিত। এখন আইসিইউ, এইচডি ও অন্যসব বেডে দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো সেবা নিচ্ছে। ফলে ২ মার্চ থেকে পুরোদমে সব বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগ সেবা চালু করা হবে। এলক্ষ্যে হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি করোনা ওয়ার্ডও থাকবে।

উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সিহাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, অন্যসব হাসপাতালের মতো এখানেও করোনা রোগী ভর্তি কমছে। তবে পাশে বিমানবন্দর থাকায় প্রতিদিন করোনা সন্দেহভাজন ৪০-৫০ জন ব্যক্তিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে পাঠানো হচ্ছে। ট্রায়াজ (শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ) পদ্ধতিতে তাদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ভর্তি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০টি বেড কোভিড ডেডিকেটেড। এরমধ্যে আন্তঃবিভাগে দৈনিক গড়ে ২০ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকছে। করোনা রোগী কমে যাওয়ায় ১ মার্চ থেকে সাধারণ রোগীদের সেবা কার্যক্রম আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এছাড়া এখানে প্রেষণে আসা চিকিৎসক, নার্স ও অন্যসব জনবলের ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্দেশনা আসলে কার্যকর করা হবে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সংক্রামণ নিম্নগামী হওয়ায় দৈনিক তিন-চার জন করে করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আইসিইউতে ছয়জনসহ মোট ৩০ জন ভর্তি রয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে গড়ে ৩০ জন করোনা রোগী ভর্তি থাকছে। এছাড়া ২২৫ জনের মতো নন-কোভিড রোগী আছে। বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। এন্টিজেন টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সংক্রমণ কমলেও আমাদের আগের মতো ১৫০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আইসিইউ ও এইচডিইউ বেড রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুই কমানো হবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. জুলফিকার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, অন্যসব হাসপাতালের মতো বিএসএমএমইউতেও করোনা রোগীর সংখ্যা কমছে। তবে রোগীদের নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা পরিচালিত অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া পোস্ট কোভিড ফলোআপ চালু রয়েছে। তাই রোগী কমলেও কোভিড ডেডিকেটেড ইউনিটটি আপাতত বন্ধ করা হচ্ছে না।

মহাখালীর এক হাজার শয্যার ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (অ্যাডমিন) ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা জ্যোতি যুগান্তরকে বলেন, ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালটি দেশের সবচেয়ে বড় কোভিড হাসপাতাল হওয়ায় সব জায়গা থেকে রোগীদের এখানে পাঠানো হয়। ঢাকার ভেতরের কোমরবিডিটি রোগীদেরও পাঠানো হচ্ছে। সব জায়গায় রোগী কমায় এখানেও কম রোগী আসছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৫৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরমধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ৯ জন। বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছেন ১০ জন এবং মারা গেছেন ছয়জন। দৈনিক গড়ে ১৪ থেকে ১৮ জন ভর্তি হচ্ছেন। বহির্বিভাগে ৪০ থেকে ৫০ জন আসছেন। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করলেও এটি বন্ধের কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে বেড ছাড়া অব্যবহৃত মেশিনারিজ (মেডিকেল সরঞ্জাম) সচল রাখতে নিয়মিত স্টোররুমে নিয়ে রিসাইকেল করা হচ্ছে। একাজে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টরা সহায়তা করছেন।

Advertisement

কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল

Advertisement

আরও পড়ুন

নির্ধারিত সময়ে ভোট না হওয়া অনির্বাচিতদের কবজায় যাচ্ছে হাজার ইউপি

অনির্বাচিতদের কবজায় যাচ্ছে হাজার ইউপি

বিশ্ব বসতি দিবস আজ আবাসনের চাপে পিষ্ট মানুষ

আবাসনের চাপে পিষ্ট মানুষ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি আমদানি স্পট মার্কেট পরিহারে ৩ মাসে সাশ্রয় হাজার কোটি টাকা

স্পট মার্কেট পরিহারে ৩ মাসে সাশ্রয় হাজার কোটি টাকা

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এক বছরে ৩৪০ কোটি টাকার অনিয়ম

এক বছরে ৩৪০ কোটি টাকার অনিয়ম

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম