Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

শাহজাহানপুরে আ.লীগ নেতা খুন

হত্যায় পেশাদার কিলার পাঁচ ক্লু ধরে তদন্ত

৪-৫ দিন আগে খুনিদের হুমকি- ‘আপনাকে মেরে ফেলব’ * এক থেকে দেড় মিনিটে হত্যা

Icon

মাহবুব আলম লাবলু ও মাহমুদুল হাসান নয়ন

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হত্যায় পেশাদার কিলার পাঁচ ক্লু ধরে তদন্ত

Advertisement

রাজধানীর মতিঝিলে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু খুনের মিশনে অংশ নেয় পেশাদার কিলার বাহিনী। গোপীবাগে বসে এ হত্যার পরিকল্পনা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে যায় কিলাররা।

হেলমেট পরা দুই কিলার এক থেকে দেড় মিনিটে অপারেশন শেষে পালিয়ে যায় একই মোটরসাইকেলে। ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে টিপুর দিকে। এরমধ্যে তার শরীরে সাত রাউন্ড গুলি লাগে। একই ঘটনায় গুলিতে নিহত হন এক কলেজছাত্রীও।

ঘটনাস্থলের আশপাশে কিলার বাহিনীর আরও কয়েকজন সদস্য ছিল। প্রয়োজনে গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে প্রস্তুত ছিল তারা। নিখুঁত পরিকল্পনায় খুব কাছ থেকে টিপুকে গুলি করা হয়।

নগরীর ব্যস্ততম সড়কে অস্ত্র উঁচিয়ে গা হিম করা এমন জোড়া খুনের কিনারা করতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে র‌্যাব, পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অন্তত পাঁচটি ক্লু সামনে রেখে তদন্ত করছেন তারা। তদন্তকারী সংস্থা ও আন্ডারওয়ার্ল্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

টিপুর ঘনিষ্ঠজন ও পরিবার সূত্র জানায়, ৪-৫ দিন আগে টিপুকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাকে বলা হয়, ‘একটু সাবধানে চইলেন। আপনাকে তো মেরে ফেলব।’ তখন টিপু বলেন, ‘কে তুমি?’ অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘সামনাসামনি দেখা হবে।’

এরপর ওই নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। যদিও টিপু এ ঘটনাকে খুব একটা পরোয়া করেননি বলে জানান তার ঘনিষ্ঠজনরা। নেতাকর্মীদের ভাষ্য-‘হুমকি-ধমকির বিষয়ে ড্যাম কেয়ার ভাব ছিল তার।’ তবে এ হুমকির পর থেকে কখনো একা বের হতেন না টিপুর স্ত্রী কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি।

বৃহস্পতিবার রাতের সেই কিলিং মিশনের বাইরে ছিলেন রিকশা আরোহী কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতি। কিলারদের ছোড়া বেপরোয়া গুলিতে মারা যান তিনি। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় মাইক্রোবাসে থাকা টিপুর দুই বন্ধু কালাম ও মিরাজ প্রাণে বেঁচেছেন অক্ষত অবস্থায়।

গুলিতে আহত হয়েছেন টিপুর মাইক্রোবাস চালক মুন্না। এ হত্যার ঘটনায় শোকের মাতম চলছে আওয়ামী লীগ নেতা টিপুর পরিবারে। আর কলেজছাত্রী প্রীতির পরিবার নির্বাক। দুজনের লাশ জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পেশাদার কিলারদের দিয়ে কারা কী কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

তবে প্রাথমিকভাবে এজিবি কলোনির যুবলীগ কর্মী রিজভী হাসান বাবু ওরফে বোচা বাবু হত্যা মামলার আসামিদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, রাজউকের ১৬ গ্রুপের কাজ ও রেলওয়ের ব্রিজের কাজের টেন্ডার নিয়ে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নতুন মোর্চার সঙ্গে টিপুর ঘনিষ্ঠতার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ এগিয়ে চলছে।

ধারণা করা হচ্ছে, কারাবন্দি যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন কাজের নিয়ন্ত্রণের কারণে টিপুকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতি হত্যার ঘটনায় যারাই কলকাঠি নাড়ুক না কেন তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এ ঘটনার রহস্য উন্মোচনে ডিবি-র‌্যাবসহ সবাই কাজ করছে। আমরা মনে করি, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে খুব শিগগিরই এর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, টিপু হত্যার ঘটনায় বেশকিছু আলামত ও তথ্য পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। যে ব্যক্তিটি মাইক্রোবাসের জানালা দিয়ে গুলি করেছে, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং কিলারদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন স্থানীয় যুবলীগ কর্মী রিজভী হাসান বাবু ওরফে বোচা বাবু।

কলোনির একটি ভবনের সামনে বাবু ও তার বন্ধু আহসানুল হক ইমনকে গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। বাবু মারা গেলেও ইমন প্রাণে বেঁচে যান। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবুর বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

কয়েক মাসের মধ্যেই এজাহারভুক্ত আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও ৫ জন গ্রেফতার হন। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। আসামিরা জামিনে বের হয়ে বাদীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালায়।

আর এ কাজে টিপুকে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ করেন ওমর ফারুক। কারণ মামলার বাদী আবুল কালাম টিপুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং মামলা চালানোর খরচ টিপুই দিতেন। কিন্তু ওমর ফারুকের অনুরোধে সায় দিচ্ছিলেন না টিপু।

মামলার সন্দেহভাজন আরেক আসামি সাগর জামিনে বের হয়ে টিপুর মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বাদীর সঙ্গে সমঝোতা করে মামলা থেকে রেহাই পান। এ খবর পাওয়ার পর ওমর ফারুক ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুসা ৩০ লাখ টাকার প্রস্তাব নিয়ে টিপুর কাছে যান।

বাদীকে নগদ ১৫ লাখ টাকা ও এজিবি কলোনিতে ১৫ লাখ টাকা দামের দুটি দোকানসহ মোট ৩০ লাখ টাকা দিয়ে সমঝোতা করে দিতে বলেন। এই প্রস্তাবেও ব্যর্থ হয়ে চরম খেপে যান তারা।

কারণ ১-২ মাসের মধ্যে মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। টিপু হত্যার তদন্তে এ ঘটনাক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে এ মামলার আসামিদের।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় মাইক্রোবাসে টিপুর সঙ্গে ওই হত্যা মামলার বাদী, বাবুর বাবাও ছিলেন। এছাড়া ওমর ফারুকের সহযোগী মুসার অতীতও ভালো নয়।

এক সময় মুসা মিরপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের কিলার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। কারাগারেই ওমর ফারুকের সঙ্গে মুসার পরিচয় হয়। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জামিনে বের হয়ে ওমর ফারুকের শেল্টারে এজিবি কলোনি এলাকায় থিতু হন মুসা।

কাজেই মুসা ও ফারুককে এই ঘটনার অন্যতম সন্দেহভাজন বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। টিপু-বাবুর পরিবারের সূত্রগুলোও এমন সন্দেহ উড়িয়ে দেয়নি। ওমর ফারুকসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সূত্রগুলো বলছে, অস্ত্রের ঝনঝনানি ও টেন্ডারবাজির ঘটনায় এক সময়ের উত্তপ্ত মতিঝিল বেশ কিছুদিন শান্ত ছিল। সাবেক যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যার পর হোয়াইট কালার ক্রিমিনাল হিসাবে খ্যাত পেশাদার কিলার তারেক মারা যায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে।

গুলশানের শাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল আমেরিকায় পালিয়ে যায়। এরপর পুরো মতিঝিলের বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তরের ঠিকাদারির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সম্রাট-খালেদের হাতে।

গণপূর্তের কাজের গডফাদার জিকে শামীম এক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের মোর্চা থেকে বেরিয়ে সম্রাট-খালেদের সঙ্গে যোগ দেয়। কিন্তু ক্যাসিনো কান্ডে ফেঁসে সম্রাট ও খালেদ কারাবন্দি হওয়ার পর পুরো মতিঝিল এলাকা শূন্য হয়ে পড়ে।

এই সুযোগে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক টিপু ও স্থানীয় একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিলে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। কারাবন্দি সম্রাট ও খালেদের সঙ্গে সখ্য রেখেই এলাকা গোছায় তারা।

এ অবস্থায় টিপুর ওপর নজর পড়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডে গড়ে ওঠা নতুন মোর্চার। এই মোর্চার সদস্য বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান, জাফর আহমেদ মানিক, ইখতিয়ার ও মোল্লা মাসুদ। এরা টিপুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে তাকে দলে ভেড়ায়।

জিসানের বড় ভাই টিপুকে নিয়ে গণপূর্ত, রাজউক ও রেলওয়ের টেন্ডারে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার শঙ্কা পেয়ে বসে খালেদকে। টিপুর ঘাড়ে ভর করে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নতুন মোর্চা যাতে আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে সে জন্য টিপু হত্যার পরিকল্পনা হতে পারে।

এক থেকে দেড় মিনিটে হত্যা : জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যা করে অত্যন্ত পেশাদার ও অস্ত্র চালনায় সিদ্ধহস্ত এমন সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা বিশ্লেষণ করে এমনটিই মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

পাশাপাশি দীর্ঘ পরিকল্পনার মাধ্যমে এই হত্যা সম্পন্ন হয় বলেও মত তাদের। তারা বলছেন, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এতে অংশ নেয়। তবে নেপথ্যে থেকে হয়তো অনেকেই কাজ করেছে।

হত্যার সময় গাড়িতে টিপুর পেছনের সিটে বসা ছিলেন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিরাজ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।

ঘটনার বর্ণনায় বলেন, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে। গাড়িটি ঘটনাস্থলে আসা মাত্রই হঠাৎ টিপুকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে এক যুবক। এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায় সে।

পুলিশ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাধিক সূত্র জানায়, জাহিদুল ইসলাম টিপু যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক মিল্কী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে অনেক দিন কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে জামিনে মুক্ত হন।

২০১৩ সালের ২৯ জুলাই গুলশানের শপার্স ওয়ার্ল্ড নামের একটি বিপণিবিতানের সামনে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্কীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ মামলার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না জানতে চাইলে মিজানুর বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য তদন্ত করে সেটা বলতে পারবে। 

শাহজাহানপুর থানায় মামলা : জাহিদুল ইসলাম টিপুসহ দুই হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার টিপুর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলা করেন।

ফারহানা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ১১, ১২নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর। শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মোল্লা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে দলীয় কোন্দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন টিপু। চার-পাঁচ দিন আগে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী টিপুকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।

টিপুর গলা, বুক, পেট, কাঁধ, পিঠ, কোমরসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুলি বিদ্ধ হয়েছে। দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক পথচারী (কলেজছাত্রী প্রীতি) নিহত হয়েছেন। টিপুর বাসা খিলগাঁওয়ের বাগিচা এলাকায়।

মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। তার মতিঝিল কাঁচাবাজার এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে আছে। তিনি এই ব্যবসা দেখাশোনা করতেন।

মতিঝিলে টিপুর জানাজা সম্পন্ন : শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে মতিঝিল এজিবি কলোনি ঈদগাহ মাঠে টিপুর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

জানাজা শেষে ডিএসসিসি মেয়র টিপুর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ-সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামালসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

পরে মেয়র তাপস টিপুর শাহজাহানপুর বাগিচা এলাকার বাসায় যান এবং নিহতের স্ত্রী কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি, তার ছেলেমেয়েসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি জানান।

নিহতের পরিবার জানিয়েছেন, টিপুর লাশ তার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
 

Advertisement

হত্যা

Advertisement

আরও পড়ুন

ভয়ের বদলে তোয়াক্কা না করার সংস্কৃতি চালু নিয়ন্ত্রণে আসছেই না আইনশৃঙ্খলা

নিয়ন্ত্রণে আসছেই না আইনশৃঙ্খলা

উচ্ছেদ নিয়ে রণক্ষেত্র মিরপুর

উচ্ছেদ নিয়ে রণক্ষেত্র মিরপুর

প্রবেশ পাশ নিয়ে যাচ্ছে তাই অবস্থা অরক্ষিত সচিবালয়, শঙ্কা নিরাপত্তা নিয়ে

অরক্ষিত সচিবালয়, শঙ্কা নিরাপত্তা নিয়ে

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে অটুট রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে অটুট রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম