জাতীয় ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে এখনই
jugantor
যুগান্তরকে জিএম কাদের
জাতীয় ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে এখনই

  শেখ মামুনূর রশীদ  

১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জিএম কাদের
জিএম কাদের। ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, চলমান সংকট মোকাবেলায় এখন থেকেই কার্যকর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

এজন্য গুরুত্বপূর্ণ সব রাজনৈতিক দলকে আস্থায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশ আমাদের সবার। দেশ ও জাতির জন্য নিজের বা দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের সেবায় কাজ করতে হবে।

এ ব্রত নিয়ে করোনাকালীন ও করোনা-উত্তর রাজনীতি পরিচালিত করতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, সময়টা স্বাভাবিক নয়, পরিস্থিতি অচেনা ও অনিশ্চিত। আগামী দিনের রাজনীতিও জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। 

সম্প্রতি যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জিএম কাদের এসব কথা বলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ভাই হিসেবে পরিচিতি থাকলেও যোগ্যতা, দক্ষতার কারণে আরও অনেক আগে থেকেই নিজস্ব একটা অবস্থা তৈরি করেছিলেন জিএম কাদের।

এরই ধারাবাহিকতায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবদ্দশায় তিনি জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এরও আগে ছিলেন কো-চেয়ারম্যান। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জিএম কাদের কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সমাজ ও রাজনীতি, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, করোনাকালীন সংকট, বন্যা প্রভৃতি নানা ইস্যুতে কথা বলেন তিনি যুগান্তরের সঙ্গে। সংকটের কথা যেমন বলেছেন, তেমনই উত্তরণের পথও বাতলে দিয়েছেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ কতদিন স্থায়ী হবে, তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। টিকা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ রোগের ঝুঁকি নিয়েই আমাদের জীবনযাপন করতে হবে। ফলে অনিশ্চিতকালের জন্য স্থবির হয়ে বসে থাকা কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।

করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মিটিং, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এসব বিষয় সামনে রেখে রাজনীতি চালিয়ে যেতে হবে।

করোনাকালে দেশ সার্বিকভাবে কিছুটা সংকটের সম্মুখীন হতে পারে। এতে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর তাগিদ জরুরি হয়ে উঠতে পারে। এতে সরকারের ব্যয় বাড়তে পারে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে।

ঘাটতি মেটাতে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা আছে। সে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, কিছুটা হলেও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যা চলমান রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

করোনার কারণে যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, ততদিন সব রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা না করা।

সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্ন হবে। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন হবে ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। বরং সহানুভূতির সঙ্গে সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে সমাধানে গঠনমূলক সুপারিশসহ অন্য যে কোনোভাবে জনস্বার্থে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের কৃষি খাত বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতি সবকিছুতেই এ খাতের অবদান নিশ্চিতভাবে আমাদের বড় ভরসার স্থল। আমাদের নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনেক আগেই বলেছিলেন- ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ কথাটি চরম বাস্তবতা হিসেবে অনুভূত হচ্ছে। করোনাকালীন ও করোনা-উত্তর পরিস্তিতিতে অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রয়োজনে সারা বিশ্বের কারও কোনো সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে, যদি কৃষি খাত সচল থাকে। 

এজন্য কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকাণ্ডকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ (যেমন- বীজ, সার, কীটনাশক, সেচের তেল ইত্যাদি) কৃষি সরঞ্জামাদি ( যেমন- পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, কম্বাইন্ড হারভেস্টর ইত্যাদি) সময়মতো সহজলভ্য করতে হবে।

কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণন, উৎপাদিত পণ্য যাতে নষ্ট না হয় এবং কৃষক যাতে প্রকৃত দাম পায়- তার ব্যবস্থা করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীরা বা কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ীরা যাতে কৃষকের প্রাপ্য সুবিধাদির সিংহভাগ বিভিন্ন পন্থায় নিজেদের দখলে না নেয়, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রকৃত কৃষক যাতে প্রণোদনার সুযোগ-সুবিধা সরাসরি পেতে পারে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। 

যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, ততদিন নিুবিত্ত, দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষকে চিহ্নিত করে প্রত্যেককে আলাদা রেশন কার্ড দিতে হবে। কার্ডের আওতায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে স্বল্পমূল্যে অথবা দরকার হলে বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

এছাড়া প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ের পরপর নগদ অর্থ সাহায্য দেয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি স্বল্প সুদ হারে ঋণ সুবিধা সম্প্রসারিত করতে হবে। তাছাড়া কিছু প্রণোদনা প্যাকেজ সৃষ্টি করে নব্য বেকার ও বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি।

পোশাক শিল্পের বাইরে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতকেও উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবহার উপযোগী করার বন্দোবস্ত নিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নিরূপণ করে সে অনুযায়ী অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জিএম কাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলেন, যে কোনো মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ওপরই বর্তায়।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির ব্যাপকতা, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা যতটুকু উদ্ঘাটিত হয়েছে, তা বিস্ময়কর। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন উপযুক্ত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

সেই কমিটির মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিষয়টিকে খতিয়ে দেখে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত, পরিচালনার অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার সমাধানসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা যেতে পারে।

সে প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার অবসান হবে এবং মানুষ কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা পাবে। 

মো. সাহেদ ও ডা. সাবরিনাসহ কয়েকজনকে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিষয়গুলো এখন তদন্তাধীন। সরকারের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে বিষয়টি যেন এখানেই থেমে না থাকে। দুর্নীতি এবং অনিয়মের ব্যাপকতা অনেক গভীর ও বৃহৎ বলে 

ধারণা করার অবকাশ আছে। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে এবং স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে সক্ষম হবেন। 

তিনি বলেন, যখন বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি, কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনার বিস্তার ঘটছিল, তখন জাতীয় পার্টি করোনা প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কতগুলো কর্মসূচি পালন করেছিল।

যেমন- মানববন্ধন, সেখান থেকে করোনা সচেতনতা বক্তব্য, বিবৃতি, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, ফেস মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ইত্যাদি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা তখন থেকেই জাতীয় সংসদে করোনা মোকাবেলার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর আমরা পিপিই, হ্যান্ড গ্লাভস, ফেস মাস্ক কয়েকটি হাসপাতালে প্রতীকী হিসেবে বিতরণ করেছি।

দলীয় ও দলের সমর্থক বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠিত টেলিমেডিসিন টিম গঠন করে তাদের নাম, মোবাইল নম্বর, মোবাইল করার সময় এবং কী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সেটি জানিয়ে তালিকা প্রকাশ করে তা জনগণের মাঝে প্রচারের ব্যবস্থা করেছি।

যার সুফল অনেকেই গ্রহণ করেছেন, এখনও করছেন। এছাড়াও জাতীয় পার্টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানিয়েছে যে, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা করোনা মোকাবেলার যে কোনো কাজে সরকারকে সহায়তা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
 

যুগান্তরকে জিএম কাদের

জাতীয় ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে এখনই

 শেখ মামুনূর রশীদ 
১১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
জিএম কাদের
জিএম কাদের। ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, চলমান সংকট মোকাবেলায় এখন থেকেই কার্যকর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

এজন্য গুরুত্বপূর্ণ সব রাজনৈতিক দলকে আস্থায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশ আমাদের সবার। দেশ ও জাতির জন্য নিজের বা দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের সেবায় কাজ করতে হবে।

এ ব্রত নিয়ে করোনাকালীন ও করোনা-উত্তর রাজনীতি পরিচালিত করতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, সময়টা স্বাভাবিক নয়, পরিস্থিতি অচেনা ও অনিশ্চিত। আগামী দিনের রাজনীতিও জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

সম্প্রতি যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জিএম কাদের এসব কথা বলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ভাই হিসেবে পরিচিতি থাকলেও যোগ্যতা, দক্ষতার কারণে আরও অনেক আগে থেকেই নিজস্ব একটা অবস্থা তৈরি করেছিলেন জিএম কাদের।

এরই ধারাবাহিকতায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবদ্দশায় তিনি জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এরও আগে ছিলেন কো-চেয়ারম্যান। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জিএম কাদের কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সমাজ ও রাজনীতি, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, করোনাকালীন সংকট, বন্যা প্রভৃতি নানা ইস্যুতে কথা বলেন তিনি যুগান্তরের সঙ্গে। সংকটের কথা যেমন বলেছেন, তেমনই উত্তরণের পথও বাতলে দিয়েছেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ কতদিন স্থায়ী হবে, তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। টিকা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ রোগের ঝুঁকি নিয়েই আমাদের জীবনযাপন করতে হবে। ফলে অনিশ্চিতকালের জন্য স্থবির হয়ে বসে থাকা কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।

করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মিটিং, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এসব বিষয় সামনে রেখে রাজনীতি চালিয়ে যেতে হবে।

করোনাকালে দেশ সার্বিকভাবে কিছুটা সংকটের সম্মুখীন হতে পারে। এতে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর তাগিদ জরুরি হয়ে উঠতে পারে। এতে সরকারের ব্যয় বাড়তে পারে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে।

ঘাটতি মেটাতে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা আছে। সে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, কিছুটা হলেও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যা চলমান রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

করোনার কারণে যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, ততদিন সব রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা না করা।

সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্ন হবে। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন হবে ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। বরং সহানুভূতির সঙ্গে সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে সমাধানে গঠনমূলক সুপারিশসহ অন্য যে কোনোভাবে জনস্বার্থে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের কৃষি খাত বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতি সবকিছুতেই এ খাতের অবদান নিশ্চিতভাবে আমাদের বড় ভরসার স্থল। আমাদের নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনেক আগেই বলেছিলেন- ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ কথাটি চরম বাস্তবতা হিসেবে অনুভূত হচ্ছে। করোনাকালীন ও করোনা-উত্তর পরিস্তিতিতে অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রয়োজনে সারা বিশ্বের কারও কোনো সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে, যদি কৃষি খাত সচল থাকে।

এজন্য কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকাণ্ডকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ (যেমন- বীজ, সার, কীটনাশক, সেচের তেল ইত্যাদি) কৃষি সরঞ্জামাদি ( যেমন- পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, কম্বাইন্ড হারভেস্টর ইত্যাদি) সময়মতো সহজলভ্য করতে হবে।

কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণন, উৎপাদিত পণ্য যাতে নষ্ট না হয় এবং কৃষক যাতে প্রকৃত দাম পায়- তার ব্যবস্থা করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীরা বা কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ীরা যাতে কৃষকের প্রাপ্য সুবিধাদির সিংহভাগ বিভিন্ন পন্থায় নিজেদের দখলে না নেয়, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রকৃত কৃষক যাতে প্রণোদনার সুযোগ-সুবিধা সরাসরি পেতে পারে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, ততদিন নিুবিত্ত, দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষকে চিহ্নিত করে প্রত্যেককে আলাদা রেশন কার্ড দিতে হবে। কার্ডের আওতায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে স্বল্পমূল্যে অথবা দরকার হলে বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

এছাড়া প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ের পরপর নগদ অর্থ সাহায্য দেয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি স্বল্প সুদ হারে ঋণ সুবিধা সম্প্রসারিত করতে হবে। তাছাড়া কিছু প্রণোদনা প্যাকেজ সৃষ্টি করে নব্য বেকার ও বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি।

পোশাক শিল্পের বাইরে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতকেও উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবহার উপযোগী করার বন্দোবস্ত নিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নিরূপণ করে সে অনুযায়ী অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জিএম কাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলেন, যে কোনো মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ওপরই বর্তায়।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির ব্যাপকতা, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা যতটুকু উদ্ঘাটিত হয়েছে, তা বিস্ময়কর। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন উপযুক্ত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

সেই কমিটির মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিষয়টিকে খতিয়ে দেখে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত, পরিচালনার অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার সমাধানসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা যেতে পারে।

সে প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার অবসান হবে এবং মানুষ কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

মো. সাহেদ ও ডা. সাবরিনাসহ কয়েকজনকে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিষয়গুলো এখন তদন্তাধীন। সরকারের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে বিষয়টি যেন এখানেই থেমে না থাকে। দুর্নীতি এবং অনিয়মের ব্যাপকতা অনেক গভীর ও বৃহৎ বলে

ধারণা করার অবকাশ আছে। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে এবং স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে সক্ষম হবেন।

তিনি বলেন, যখন বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি, কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনার বিস্তার ঘটছিল, তখন জাতীয় পার্টি করোনা প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কতগুলো কর্মসূচি পালন করেছিল।

যেমন- মানববন্ধন, সেখান থেকে করোনা সচেতনতা বক্তব্য, বিবৃতি, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, ফেস মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ইত্যাদি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা তখন থেকেই জাতীয় সংসদে করোনা মোকাবেলার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর আমরা পিপিই, হ্যান্ড গ্লাভস, ফেস মাস্ক কয়েকটি হাসপাতালে প্রতীকী হিসেবে বিতরণ করেছি।

দলীয় ও দলের সমর্থক বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠিত টেলিমেডিসিন টিম গঠন করে তাদের নাম, মোবাইল নম্বর, মোবাইল করার সময় এবং কী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সেটি জানিয়ে তালিকা প্রকাশ করে তা জনগণের মাঝে প্রচারের ব্যবস্থা করেছি।

যার সুফল অনেকেই গ্রহণ করেছেন, এখনও করছেন। এছাড়াও জাতীয় পার্টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানিয়েছে যে, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা করোনা মোকাবেলার যে কোনো কাজে সরকারকে সহায়তা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত।