Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

সিপিডির সংলাপে বক্তারা

বাজেটে পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা নেই

বাজেট সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়নি * অগ্রিম আয়কর কার্যকর হলে ব্যবসার ব্যয় বাড়বে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেটে পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা নেই

Advertisement

প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা নেই। বাজেট বক্তৃতায় যেসব পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, তার বেশির ভাগ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ২০১৬ সালে যে তথ্য দিয়েছে, সেটি ব্যবহার করা হয়েছে। করোনায় দরিদ্র পরিস্থিতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতি নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা যেসব তথ্য প্রকাশ করেছে, অর্থমন্ত্রী তার স্বীকৃতিই দেননি। এছাড়া অন্যান্য বছর বাজেট নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়। কিন্তু এবার সেটিও হয়নি। বাজেট নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ভার্চুয়াল সংলাপে শনিবার বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী, বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিসেম্বর পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের খেলাপি না করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি ছিল ব্যবসায়ীদের। অথচ বাজেটে সে হার তো প্রত্যাহার করেইনি, উলটো সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আরোপ করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর কার্যকর হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বাড়বে বহুগুণ। এছাড়া আলোচনায় যেসব বিষয় উঠে আসে, তা হলো রাজস্বনীতি ও প্রশাসন আলাদাকরণ, টিকার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকা এবং ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে বিদেশি উৎসে নজর বাড়াতে অনেকে পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু বিদেশি উৎসের পক্ষে আমি নই। সব সময় দেশকে ভালোবেসেছি। দেশের সমস্যা দেশেই সমাধান করব। যদি দেশের সব উৎস ব্যবহারের পরও ঘাটতি থাকে, তবে কেবল বিদেশে নজর দেওয়া যেতে পারে। বিদেশি ঋণ সস্তার হলেও অনেক জটিলতা আছে। প্রবাসী আয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা রেমিট্যান্স পাঠায়, তাদের সবাইকে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া ঠিক নয়। এক্ষেত্রে কার কী অবদান সেটা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। মন্ত্রী বলেন, পণ্ডিত-অপণ্ডিত ব্যক্তিরা প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি নিয়ে নানা কথা বলছেন। আসলে প্রবাসীদের সমস্যার ৮০ ভাগই আমাদের আওতার বাইরে। প্রবাসীদের জন্য অনেক করেছি, এখনো করছি। এমনকি তাদের জন্য একটা মন্ত্রণালয়ও সৃষ্টি করা হয়েছে। বিবিএস বা বিআইডিএসের তথ্য বিভ্রাটের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন এবং পুরোনো দরিদ্র নিয়ে গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যেও মিল নেই। একেক সংস্থা একেক তথ্য দিচ্ছে। সিপিডি বলছে, ৩৫ শতাংশ দরিদ্র। অন্য সংস্থাগুলো দিচ্ছে আবার ভিন্ন তথ্য। অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এরপরও বিবিএসকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, পরিসংখ্যান নিয়ে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে। এটি সঠিক। কারণ বাজেটে আমরা এক ধরনের পরিসংখ্যান দেখছি। আবার এখানে এসে দেখছি ভিন্ন চিত্র। বিবিএস এবং বিআইডিএস ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান ব্যবহার করছে। কিন্তু ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান দিয়ে ২০২১ সাল চলবে না। এজন্য দুটি সংস্থার দক্ষতা বাড়িয়ে পরিসংখ্যান হালনাগাদ করতে হবে। কারণ হলো পরিসংখ্যান সঠিক না হলে সিদ্ধান্তও সঠিক হবে না। পরিসংখ্যানই আমাদের আলোচনার ভিত্তি ঠিক করে দেবে। তিনি বলেন, বাস্তবে বাজেট নিয়ে বাংলাদেশের সংসদে খুব বেশি আলোচনা হয় না। এর আগে বিষয়টি সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হতো। আবুল মাল আবদুল মুহিত যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি সংসদীয় কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আসতেন। এরপর আমাদের আলোচনাগুলো তিনি নিজে নোট নিতেন। কিন্তু এবার সেটিও হয়নি। অর্থাৎ বাজেটের বিষয়টি কোনো কমিটিতেই আলোচনায় আসেনি। তিনি আরও বলেন, যদি এভাবে হয়, সরকার যা বলবে, এমপিরা সেটি পাশ করে দেবে, তাহলে সংসদে যাওয়ার মানে হয় না। তিনি বলেন, নীতির ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি আছে। জনস্বাস্থ্য খাতকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, করোনার কারণে জীবন-জীবিকা হুমকিতে। তাই এ বছরের বাজেটটি ছিল বিশেষ পরিস্থিতিতে জীবন-জীবিকার বাজেট। কিন্তু বাজেটে জীবন-জীবিকা গুরুত্ব পায়নি। গত বছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৯ শতাংশ। এবারও বরাদ্দ একইরকম রয়েছে। এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। করোনার টিকার জন্য কোথাও বরাদ্দের কথা বলা হয়নি। মন্ত্রী বলেছেন, বছরে প্রতি মাসে ২৫ লাখ টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু কোথা থেকে এই টিকা আসবে, তা পরিষ্কার নয়। এছাড়া প্রতি মাসে ২৫ লাখ টাকা এলেও দেশের ৮০ শতাংশ বা ১৩ কোটি মানুষকে টিকা দিতে সাড়ে ৪ বছর লেগে যাবে। তিনি আরও বলেন, করোনা যতদিন থাকবে, ততদিন দেশে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য হবে বলে মনে হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীবান্ধব বাজেট বলা হলেও এটি আসলে ঠিক নয়।

ড. রেহমান সোবহান বলেন, বাজেট নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয় না। এটি দুঃখজনক। বাজেট কতটুকু বাস্তবায়ন হলো, এর গুণগত মান নিয়ে সঠিক মূল্যায়ন নেই। বাজেট বাস্তবায়নে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে টাস্কফোর্স হতে পারে। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তারা কাজ করবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, করোনার প্রথম আঘাত এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কেউ ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাকে খেলাপি করা যাবে না। এ সুবিধা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো উচিত। তিনি বলেন, বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি ছিল ব্যবসায়ীদের। অথচ বাজেটে সে হার তো প্রত্যাহার করেইনি, উলটো সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আরোপ করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর কার্যকর হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বাড়বে বহুগুণ। তাই অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জন্য আবারও অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর ৪ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে, এটাও সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে শুল্ক ও কর কাঠামো সংস্কার করে একটি জনবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং উৎপাদনশীল রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ২৮ শতাংশ এখনো বিতরণ হয়নি। বাকি অংশ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আরেকটা প্যাকেজ ঘোষণার অনুরোধ করছি। তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনবিআরের নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগকে আলাদা করার অনুরোধ করছি।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষকে টেনে তুলতে হবে। ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। দুর্নীতি-অপচয় বন্ধ করতে হবে। এসব কিছুর প্রতিশ্রুতি প্রস্তাবিত বাজেটে নেই। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) শিল্পের ‘এম’ বা মিডিয়ামটা বাদ দেওয়া দরকার। কারণ বেশির ভাগ ঋণ ‘এম বা মাঝারিরা’ পায়। ছোট উদ্যোক্তারা পায় না। অর্থাৎ ছোটদের ঋণ ছোটরা না পেয়ে পেয়ে যান মাঝারিরা। তবে বাজেট যত বড়ই হোক, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা না থাকলে সে বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষ পায় না।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, বাজেটের সুফল পেতে হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। করোনার মধ্যে এত ছাড় আশা করিনি। এটা অনেক সাহসী উদ্যোগ। বাজেট-পরবর্তী সবাই সমালোচনা করে বলছেন, বড় ব্যবসায়ীরা সব নিয়ে যাচ্ছে। লুটেরা সব ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ বা কথা বলা উচিত নয়। বড় ব্যবসায়ীদের কিছু দেওয়া হয়নি, বরং তাদের থেকে যা নেওয়া হবে, তার থেকে কিছুটা কমানো হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি বা রাজস্ব আহরণে বড় ব্যবসায়ীদের অবদান অনেক। বড়রা পেয়ে যাচ্ছেন সব, কিন্তু তাদের চাপটা কেউ দেখেন না। তাদের চাপ সইতে হয় বড়। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রণোদনার সব টাকা পাননি, এটা সঠিক।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সংগঠন-নাসিব প্রেসিডেন্ট মির্জা নুরুল গনি শোভন বলেন, ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ৭২ বাস্তবায়ন দাবি করা হলেও পেয়েছি মাত্র ২০-২৫ শতাংশ। বাকি টাকা কোথায় গেল, তদন্ত হওয়া উচিত। ব্যাংকের পরিচালকরা ছোট উদ্যোক্তাবান্ধব নয়, তারা ঋণ দিতে চায় না। তাই পরিচালক নিয়োগে আলাদা কমিশন গঠন করতে হবে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটের অনুমিতি দুর্বল। কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়েই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি ব্যয় ওইভাবে বাড়েনি। বঙ্গবন্ধুর প্রথম বাজেটে জিডিপির ১৬-১৭ শতাংশ সরকারি ব্যয়ের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা প্রতিনিয়ত কমেছে। মূল প্রবন্ধে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এটি বড় নয়। তবে ব্যয় করার সক্ষমতা এবং গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। বছরের সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। সিপিডি মনে করছে, বাস্তবে ২ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হবে। ফলে এ বছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হলেও বাস্তবে তা ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শুধু অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে টিকে থাকার চেষ্টা বাজারজুড়ে শুধুই দীর্ঘশ্বাস

বাজারজুড়ে শুধুই দীর্ঘশ্বাস

মেগা সংস্কারে হারানো রূপে ‘সিন্দুরমতি’

মেগা সংস্কারে হারানো রূপে ‘সিন্দুরমতি’

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের বৈঠক আর্থিক খাত সংস্কারের শর্তে মিলবে ঋণ

আর্থিক খাত সংস্কারের শর্তে মিলবে ঋণ

নাসিরাবাদে সাইফুলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

নাসিরাবাদে সাইফুলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম