Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের বৈঠক

আর্থিক খাত সংস্কারের শর্তে মিলবে ঋণ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট -অর্থমন্ত্রী

Advertisement

Icon

কাজী জেবেল, ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

নানা আলোচনার পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়ার পথে আরও এগিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে এজন্য আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধির শর্ত দিয়েছে সংস্থাটি। এসব শর্ত মানলে তবেই মিলবে ঋণ। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইতোমধ্যে অনেক শর্তমানা হয়েছে। বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশলের ভিত্তিতেই উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নেওয়া হবে।

ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সাধারণ সভার ফাঁকে বৃহস্পতিবার আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায় এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া গতকাল উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাদের বক্তব্যেও বাংলাদেশের ঋণ পাওয়ার অগ্রগতির বিষয়টি উঠে আসে। আইএমএফের ঋণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখানে ঋণ প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেটার জন্য শর্ত থাকবে, শর্ত পূরণ করতে হবে। আবার কিছু কিছু বিষয়ে দুপক্ষ সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। স্ট্রাটেজি অনুযায়ী আলোচনা এতদূর এসেছে। অপরদিকে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশলের ভিত্তিতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, এবারই প্রথম বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। ফলে দেশের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইএমএফের ঋণ পেতে শর্ত কোনো বাধা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিতুমীর বলেন, বিষয়গুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে যাবে। সরকার প্রতিটি পদক্ষেপ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা গত ১২ অক্টোবর ব্যাংককে শুরু হয়েছে, চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। গতকাল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ঝুঁকি, খাদ্য নিরাপত্তা, বৈশ্বিক সংকটের সময়ে ঋণ সহায়তা ও অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা, বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে পৃথক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় বৈশ্বিক পরিস্থিতি, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। এদিকে আইএমএফের সঙ্গে ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে এ কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। কিছু বিষয়ে দুপক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত, ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইএমএফের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইএমএফের প্রশ্ন রয়েছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদেরও কিছু অবজারবেশন আছে। ব্যাংক, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত নিয়ে ওদের অবজারবেশন আছে। আমরা এসব অবজারবেশন নিয়ে একমত। ইতোমধ্যে অনেকগুলো পূরণও হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য, বাজেট-পরবর্তী অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে সংস্থাটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু আইএমএফ নয়, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গেও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে বাংলাদেশ।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ব্যাংকক সভায় খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সরকারি ঋণ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো এবং বাজেটের ওপর ভর্তুকির চাপ কমানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে কর আহরণ ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিতুমীর। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণী ও ব্যালান্সশিটের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। আইএমএফের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেই বিবেচনায়ও আন্তর্জাতিক সংস্থাটির পূর্বাভাস দেখা প্রয়োজন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তার মতে, অতীতের তথ্য পর্যালোচনা করলে আইএমএফের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ তুলনামূলকভাবে সংরক্ষণশীল দেখা যায়। তিনি বলেন, আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকার বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদী।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শুধু অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে টিকে থাকার চেষ্টা বাজারজুড়ে শুধুই দীর্ঘশ্বাস

বাজারজুড়ে শুধুই দীর্ঘশ্বাস

মেগা সংস্কারে হারানো রূপে ‘সিন্দুরমতি’

মেগা সংস্কারে হারানো রূপে ‘সিন্দুরমতি’

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের বৈঠক আর্থিক খাত সংস্কারের শর্তে মিলবে ঋণ

আর্থিক খাত সংস্কারের শর্তে মিলবে ঋণ

নাসিরাবাদে সাইফুলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

নাসিরাবাদে সাইফুলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম