Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

মেগা সংস্কারে হারানো রূপে ‘সিন্দুরমতি’

বদলে যাচ্ছে ১৬ একরের ঐতিহাসিক দিঘি * প্রাচীন তীর্থস্থানের উন্নয়নে আনন্দিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

Advertisement

Icon

হাবিবুর রহমান হাবীব, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ঐতিহাসিক সিন্দুরমতি দিঘি অবশেষে ফিরে পাচ্ছে হারানো রূপ। প্রায় দেড়শ কোটি টাকার মেগা সংস্কারে বদলে যাচ্ছে ১৬ দশমিক ৫ একর আয়তনের প্রাচীন এই দিঘি। খনন শেষ হওয়ার পর এখন দিঘির পাড় উঁচু করা, চারপাশে ঢালাই পথ নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ, আধুনিক স্নানঘাট ও পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ নির্মাণসহ চলছে নানা উন্নয়ন।

রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিন্দুরমতি এলাকা এবং লালমনিরহাট সদরের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে দিঘিটি অবস্থিত। এটি শুধুই জলাশয় নয়, হাজার বছরের ইতিহাস, লোককথা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, দিঘিটি ৮০০ থেকে ১০০০ বছর আগে খনন করা হয়েছিল। স্থনীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, শ্রীলংকা থেকে আসা হিন্দু জমিদার রাজ নারায়ণ চক্রবর্তী প্রজাদের পানির কষ্ট দূর করতে বিশাল এই দিঘি খননের উদ্যোগ নেন। কিন্তু খনন শেষ হলেও দিঘিতে পানি না ওঠায় তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন।

লোককথা রয়েছে, এক রাতে জমিদার স্বপ্নাদেশ পান-তার আদরের দুই কন্যা সিন্দুর ও মতিকে দিঘির মাঝখানে বসিয়ে পূজা-অর্চনা করতে হবে। সেই অনুযায়ী দিঘির মাঝখানে পূজার আয়োজন করা হয়। পূজার একপর্যায়ে প্রয়োজনীয় উপাচার সংগ্রহ করতে জমিদার দিঘির পাড়ে উঠে আসেন। ঠিক তখনই দিঘির তলদেশ থেকে প্রবল বেগে পানি উঠতে শুরু করে। মুহূর্তেই পানিতে ভরে যায় বিশাল দিঘি। তবে সেই অথৈ জলে তলিয়ে যান জমিদারের আদরের দুই কন্যা সিন্দুর ও মতি। তাদের নাম অনুসারেই দিঘিটির নাম হয় ‘সিন্দুরমতি’।

দিঘির চারপাশে রয়েছে প্রাচীন বটবৃক্ষ ও বিভিন্ন দেব-দেবীর মন্দির। রাম মন্দির, কালী মন্দির, শিব মন্দির, দুর্গা মন্দির, রাধা-কৃষ্ণ মন্দির, বিশ্বকর্মা মন্দির, গণেশ মন্দির, ভোলানাথ মন্দির, বুড়ি মন্দির, ইসকন মন্দির ও শ্মশান কালী মন্দিরসহ অনেক ধর্মীয় স্থাপনা। লাশ সৎকার, প্রতিমা বিসর্জনসহ নানা ধর্মীয় আচারও পালিত হয় এই দিঘি ঘিরে। প্রতিবছর চৈত্র মাসে বসে ঐতিহাসিক ‘সিন্দুরমতি মেলা’। পুণ্যস্নানের আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীরা এখানে আসেন। ভারত ও নেপাল থেকেও এই মেলায় মানুষের সমাগম ঘটে।

সংস্কারের ছোঁয়ায় ফিরছে পুরোনো রূপ : দীর্ঘদিনের অবহেলায় দিঘিটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল। এখন সেই চিত্র পালটাতে শুরু করেছে। দিঘির খনন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাড় উঁচু করা, চারপাশে সুসজ্জিত ঢালাই পথ তৈরি, সৌন্দর্যবর্ধনে বৃক্ষরোপণ এবং দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে আধুনিক স্নানঘাট ও পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে।

১৯৭৫ সালে তৎকালীন সরকার দিঘিটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই সময় খননকালে দিঘির তলদেশ থেকে প্রাচীন মূর্তি ও মূল্যবান মুদ্রা উদ্ধারের কথা জানা যায়। এসব প্রত্নবস্তু বর্তমানে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে চলমান এই বড় সংস্কার প্রকল্পে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কর্মযজ্ঞ চলছে। ৪০০ মন চাল ও ১০০ মন গম বিক্রির টাকাও প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। সিন্দুরমতি দিঘির তত্ত্বাবধায়ক তপন কুমার মন্ডল বলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রতিনিধিরা এসে দিঘিটিকে ৮০০ থেকে হাজার বছরের পুরোনো বলে জানিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা হেমন্ত কুমার বর্মণ বলেন, এই দিঘির সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। বয়োজ্যেষ্ঠ শ্রীমতি ফুলঝুরি বলেন, রাম ঠাকুর ও কালী ঠাকুরের পূজা থেকে শুরু করে ছোটবেলা থেকেই এই দিঘির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ঐতিহ্যবাহী এই দিঘিটিকে এমনভাবে সাজাতে, যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে ও শান্তিতে পূজা-অর্চনা এবং পুণ্যস্নান করতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর আগাম বৃষ্টির কারণে সব কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে অক্টোবর ও নভেম্বরে পুরোদমে কাজ করে এটিকে দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত করার চেষ্টা আছে।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শুধু অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে টিকে থাকার চেষ্টা বাজারজুড়ে শুধুই দীর্ঘশ্বাস

বাজারজুড়ে শুধুই দীর্ঘশ্বাস

মেগা সংস্কারে হারানো রূপে ‘সিন্দুরমতি’

মেগা সংস্কারে হারানো রূপে ‘সিন্দুরমতি’

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের বৈঠক আর্থিক খাত সংস্কারের শর্তে মিলবে ঋণ

আর্থিক খাত সংস্কারের শর্তে মিলবে ঋণ

নাসিরাবাদে সাইফুলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

নাসিরাবাদে সাইফুলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম