সিপিডির গবেষণা
পরিদর্শনের বাইরে ২২ শতাংশ তৈরি পোশাক কারখানা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের পোশাক কারখানায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে ২২ শতাংশ তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শনের বাইরে রয়েছে। এসব কারখানায় বারবার দুর্ঘটনাও ঘটছে। অবশ্য মাঝারি মানের কারখানায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। এসব কারখানার কর্মপরিধি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে নিরাপত্তায় যতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হয়, অন্য সব খাতে ততটুকু গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ কারণে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুসের কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। রোববার পোশাক খাত নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ভার্চুয়াল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে।
সিপিডির ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, ডিআইএফ ইন্সপেক্টর জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ, শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তার, বাবুল আক্তার প্রমুখ।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, পোশাক খাতে নিরাপত্তার বিষয়ে ক্রেতাদের চাপ থাকে। সেজন্য সেখানে নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক চাপ না থাকলে কমপ্লায়েন্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা হবে না-এমন তো হতে পারে না। এ ধরনের নিরাপত্তা যারা নিশ্চিত করবেন, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।
সিপিডির চেয়ারম্যান প্রফেসর রেহমান সোবহান বলেন, রানা প্লাজার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার যে শিক্ষা দিয়েছে, পোশাকের বাইরে অন্য সব খাত সেই শিক্ষা নিয়েছে কি? উত্তর হলো, না। পোশাকের বাইরে রপ্তানিমুখী অন্য সব শিল্প এবং স্থানীয় শিল্পের নিরাপত্তায় নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর ইউরোপের ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড এবং উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের পোশাক খাত নিয়ে কাজ করে। এতে পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স দেশ থেকে চলে গেলে দায়িত্ব নেয় সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এ সময়ে কারখানার নিরাপত্তায় তেমন একটা অগ্রগতি হয়নি। প্রায় চার হাজার পোশাক কারখানার মধ্যে এখনো ২২ শতাংশ পরিদর্শনের বাইরে রয়েছে। পোশাক খাতে দুর্ঘটনা আবারও বাড়ছে। আহতের সংখ্যাও বাড়ছে। আগে অগ্নিদুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি হলেও সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতাও যুক্ত হচ্ছে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সেজান কারখানার ঘটনা দেখিয়েছে এতদিন আমরা শুধু পোশাক খাত নিয়ে ভেবেছি। অন্য সব খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এ দুর্ঘটনার পর পোশাক খাতের বাইরের অন্য সব শিল্পের নিরাপত্তা জোরদার করার সময় এসেছে।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে পোশাক খাতের অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি বেশকিছু শিল্প দুর্ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে- অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে অর্জিত অগ্রগতি আমরা ধরে রাখতে পারছি কিনা। নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে পরিদর্শনের ক্ষেত্রে জনবলের ঘাটতি রয়েছে।
আলোচনায় শ্রমিক প্রতিনিধিরা পোশাক খাতসহ অন্য সব খাতের নিরাপত্তায় বিভিন্ন পক্ষের দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরেন।
