ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ
পাহাড়ে বিচারের নামে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইয়াবার চালান আত্মসাতের অভিযোগে বিচারের নামে চারজনকে ডেকে নিয়ে পাহাড়ে আটকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের টেকনাফে। এ ঘটনায় মোক্তার কামাল ও আলী আকবর ওরফে আব্বুয়া নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও দুজনকে। স্থানীয় মিজান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চারজনকে জিম্মি করে ডাকাত দলের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসসংলগ্ন ভিলেজার পাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে মোক্তার কামালের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুপুর দেড়টার দিকে একই ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে আলী আকবরের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মোক্তার কামাল হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। আলী আকবর একই এলাকার কালু ফকিরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পাহাড়ি এলাকায় কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার ইলিয়াস ও আলী আহমদকে।
আহত ইলিয়াসের দাবি, আটজন মিলে ইয়াবার একটি চালান চেকপোস্ট পার করে দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে একটি ডাকাত দল চালানটি ছিনিয়ে নেয়। চালানটিতে আনুমানিক ১০ কাট বা এক লাখ পিস ইয়াবা ছিল। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের সাত কাট বা ৭০ হাজার পিস উদ্ধার করা গেলেও বাকি তিন কাট বা ৩০ হাজার পিসের সন্ধান মেলেনি। এই ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ থেকেই বিরোধের সূত্রপাত।
ইলিয়াস আরও জানান, এ অভিযোগে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার মিজান সোমবার রাতে বিচারের কথা বলে তাদের চারজনকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাদের জিম্মি করে হ্নীলার একটি ডাকাত দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই দলের সদস্যরা পাহাড়ে আটকে তাদের মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন। নির্যাতনকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয়। পরে ইলিয়াস ও আলী আহমদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা অপর একজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ইলিয়াসের দাবি, ইয়াবার চালানটির মালিক হ্নীলা এলাকার এক মাদক কারবারি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিজান ও সংশ্লিষ্ট দলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ইয়াবাসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পানখালী ও লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি এলাকা থেকে দুজনের লাশ ও আহত দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাদকের চালান আত্মসাৎ ও পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
