Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

বিশ্ব হার্ট দিবস আজ

হৃদরোগ চিকিৎসাবঞ্চিত প্রান্তিকের রোগী

Icon

জাহিদ হাসান

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হৃদরোগ চিকিৎসাবঞ্চিত প্রান্তিকের রোগী

Advertisement

রাজধানীসহ বড় শহরকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে হার্ট অ্যাটাক বা হৃরোগের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এ রোগে আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না। প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রোগটি সম্পর্কে তাদের ধারণা কম, তেমন সচেতনও নন।

এমন প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বের মতো আজ দেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস-২০২১। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘হৃদয় দিয়ে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিন’। দিবসটি উপলক্ষ্যে হৃদরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দিবসটি সামনে রেখে একাধিক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ যুগান্তরকে বলেন, এখন রোগটির উন্নত সেবা দেশেই মিলছে। তবে এটা বড় বড় শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আধুনিক সেবার প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাছাড়া হৃদরোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অসচেতনতা ও চিকিৎসা কেন্দ্র ভেদে রোগটির সেবার মূল্য কম-বেশি হওয়ায় চিকিৎসা আওতার বাইরে থাকছেন অসংখ্য রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য মতে, বিশ্বে প্রতিবছর হৃদরোগজনিত কারণে অন্তত ১ কোটি ৭৯ লাখ লোক মারা যান। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে প্রতিবছর বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগজনিত কারণে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ ভাগই হচ্ছে অসংক্রামক রোগে। এর মধ্যে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশই হৃদরোগী।

অসংক্রমাক রোগ বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগের মধ্যে অন্যতম একটি হলো হৃদরোগ। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম) পরিচালিত এক গবেষণায়ও দেখা গেছে দেশে ৯৭ ভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের এপিডেমিওলোজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বাংলাদেশে বিভিন্ন রোগে মৃত্যুর মধ্যে প্রথম স্থানে স্ট্রোক এবং দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএসের তথ্যেও এমন চিত্র উঠে এসেছে। এ ক্ষেত্রে প্রিম্যাচিউরড হার্ট ডিজিজ বা ৫০ বছরের পরপরই অকাল মৃত্যু বেশি হচ্ছে। এমনকি ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সিরাও হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন। এর কারণ দেশের বেশির মানুষের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। এদের বড় একটি অংশ নানাভাবে তামাক ব্যবহার করেন। একটি অংশ অতিরিক্ত তেল-চর্বি জাতীয় এবং কার্বোহাইড্রেড সমৃদ্ধ খাদ্য বেশি গ্রহণ করছেন। মানুষের জীবনধারায়ও পরিবর্তন এসেছে। এতে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো রিস্ক ফ্যাক্টর হচ্ছে। ফলে হৃদরোগ বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, মানুষের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভাসের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তারা তামাকজাত পণ্য সেবন করেন। কায়িক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় দিন দিন মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বি জমা ও স্থুলতাজনিত কারণে হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশ্ব হার্ট দিবসের আগে দেশে হার্টের চিকিৎসা কেমন হচ্ছে তা জানতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) অনুসন্ধান চালানো হয়। সোমবার এনআইসিভিডিতে সরেজমিন দেখা গেছে দেশব্যাপী এ রোগের চিকিৎসার বাস্তব অবস্থা। এদিন হাসপাতালে বহির্বিভাগের ১১১ কক্ষের সামনে ৩৩ দিনের শিশু সোলায়মানকে কোলে নিয়ে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার বাবা সর্দার উদ্দিন। পেশায় ভ্যান চালক সর্দার উদ্দিন এসেছেন ময়মনসিংহ থেকে। জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ছেলের হার্টের সমস্যা। ময়মনসিংহে দেখানোর পর এখানে পাঠিয়েছে। কিন্তু এখানের চিকিৎসকরা মিরপুর দারুস সালাম রোডে হার্ট ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করতে বলছেন। সর্দার জানালেন, এ পর্যন্ত শিশুর চিকিৎসায় প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা শেষ । তিনি বলেন, বড় কষ্ট হলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে দেখানোর পরও বাচ্চার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকায় আসতে হয়েছে।

একইভাবে পঞ্চগড় থেকে আসা দুই বছরের শিশু হাফিজাকে ভর্তি করা হয়েছে এনআইসিভিডির ২নং ওয়ার্ডের চার নম্বর বেডে। তার চাচা মো. হাসুনুল ইসলাম মিলন বলেন, এর আগে দিনাজপুর হার্ট ফাউন্ডেশন, পার্বতীপুর মিশন হাসপাতাল ও মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশন ঘুরে অবশেষে জানতে পারেন ভাইয়ের মেয়ের হার্টে ছিদ্র আছে। এখন অপারেশন করাতে জাতীয় হৃদরোগে ছুটে এসেছেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এক লাখের বেশি টাকা খরচ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এত জায়গায় দেখানোর পর শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আনতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ রোগী তার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এরমধ্যে বড় একটি অংশ আসে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে। করোনা সংক্রমনের আগে এনআইসিভিডিতে গড়ে এক হাজার রোগী ভর্তি থাকত। কিন্তু প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের সময় রোগীর সংখ্যা তিনশতে নেমে এসেছিল। এখন আবার বারোশর মতো ভর্তি রয়েছে। এর কারণ ওই সময় সবকিছু বন্ধ থাকায় জেলা-উপজেলার মানুষ আসতে পারেনি।

তিনি বলেন, দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত এক শতাংশ রোগীও সময়মতো চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে পারে না। কিছু রোগী এলেও প্রান্তিকের হাসপাতালগুলোতে তাৎক্ষণিক প্রিভেন্টিভ ট্রিটমেন্ট বা জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ উপজেলা পর্যায়ে কার্ডিওলোজির চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই।

এছাড়া দেশে হৃদরোগের সেবা দেওয়ার মতো চিকিৎসক ও নার্স কম রয়েছে। কারণ একজন দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করতে প্রায় একযুগ লেগে যায়। এরমধ্যে এনআইসিভিডি একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখান থেকে পাশ করা ৭০ শতাংশ চিকিৎসক সারা দেশের হৃদরোগীদের সেবা দিচ্ছে। এর বাইরে বিএসএমএমইউ, হার্ট ফাউন্ডেশন, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল বিম্ববিদ্যালয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হৃদরোগের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন হচ্ছে।

হার্ট দিবস উপলক্ষ্যে কর্মসূচি : বিশ্বহার্ট দিবস উপলক্ষ্যে হৃদরোগ চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনেসচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আজ সকাল ৯টায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিএসএমএমইউ এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে।

Advertisement

বিশ্ব হার্ট দিবস

Advertisement

আরও পড়ুন

চাঁদার টাকায় আধুনিক অস্ত্রের মজুত

চাঁদার টাকায় আধুনিক অস্ত্রের মজুত

জঙ্গল থেকে জনপদ ইতিহাসের সাক্ষী তিতাখাঁ মিতাখাঁ মসজিদ

ইতিহাসের সাক্ষী তিতাখাঁ মিতাখাঁ মসজিদ

ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ পাহাড়ে বিচারের নামে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা

পাহাড়ে বিচারের নামে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা

নিত্য মৃত্যুর ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক একনেকে ঠাঁই হয়নি ছয় লেন প্রকল্পের

একনেকে ঠাঁই হয়নি ছয় লেন প্রকল্পের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম