প্রার্থী হলেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার সাক্কু
jugantor
প্রার্থী হলেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার সাক্কু

  হাবিবুর রহমান খান ঢাকা ও আবুল খায়ের, কুমিল্লা  

১৪ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওযার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ফলে আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ভোটে অংশ নিচ্ছে না দলটি। শুধু তাই নয়, বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু নির্বাচনে অংশ নিলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাক্কু।

ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছেন মনোনয়ন ফরম। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিলে তার ভাগ্য হতে পারে নারায়ণগঞ্জের তৈমুর আলম খন্দকারের মতোই।

তৈমুরও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় প্রথমে তার পদ স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয় দল থেকে।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না এমন অভিযোগে ইতোমধ্যে সাক্কুর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে সাক্কুর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজামুদ্দিন কায়সার। মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কায়সার। বিএনপির এ দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। উভয় প্রার্থীই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণ করছেন। শেষ পর্যন্ত এ দুজনই ভোটে থাকলে জয় পাওয়া সাক্কুর জন্য অনেকটা কঠিন হবে। তবে কায়সার ভোটে থাকলে তাকেও বহিষ্কার করা হতে পারে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ দল একটা শৃঙ্খলার মধ্যে চলে। কেউ তার ঊর্ধ্বে নয়। তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ভোটে অংশ নিলে নিশ্চয়ই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ও কুমিল্লার স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মনিরুল হক সাক্কু প্রকাশ্যে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাকে নিয়ে নানা সন্দেহ রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে তিনি নিজস্ব একটা বলয় তৈরি করেছেন। সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার সঙ্গে সাক্কুর সখ্য রয়েছে। গত সিটি নির্বাচনে তার পরোক্ষ সহযোগিতায় মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

মেয়র হওয়ার পর থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন সাক্কু। মেয়র হিসাবে শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা ছুয়ে সালাম করেন। এ নিয়ে ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দলীয় ফোরামে ব্যাপক সমালোচনা হয়। কিন্তু দলের সমালোচনাকে তেমন পাত্তা দেননি সাক্কু। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাতের নানা অভিযোগ রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিভাগের দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ছিল। কিন্তু ওইদিন বৈঠকে অংশ নেননি সাক্কু। সভায় যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে তাকে কেন্দ্র থেকে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ১৩ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

হাইকমান্ডের এমন কঠোর সিদ্ধান্তের পরও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হননি তিনি। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, এবারও বিএনপির ভোটব্যাংক ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের সহযোগিতায় পুনরায় মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। মেয়র নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

তবে সাক্কুর ঘনিষ্ঠরা জানান, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করবেন কিনা তা অনেকটা নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ওপর। সরকার দলের পক্ষ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত মনোনয়ন পাওয়ায় সাক্কু শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নাও নিতে পারেন। কারণ রিফাত ও সাক্কু আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার আস্থাভাজন। তাই রিফাত মনোনয়ন পাওয়ায় ওই নেতার নির্দেশেই ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন সাক্কু। শেষ পর্যন্ত যদিও নির্বাচন করেন তা হবে অনেকটা নিয়ম রক্ষার।

মেয়র সাক্কুর গলার কাঁটা কায়সার : কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজামুদ্দিন কায়সার। বিগত কুসিকের দুটি নির্বাচনে নিজ দলের পক্ষ থেকে বিরোধী কোনো প্রার্থী না থাকায় সাক্কু অনায়াসেই বিএনপির ভোটব্যাংক এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু আসছে কুসিকের তৃতীয় দফার নির্বাচনে সাক্কুর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এবার প্রার্থী হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিজামুদ্দিন কায়সার। এতে এবার নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া সাক্কুর জন্য অনেকটাই কঠিন হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানা যায়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দুটি ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন। আরেক অংশের কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে এ গ্রুপিং। বিগত কুসিক নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় ইয়াছিন গ্রুপ সাক্কুর পক্ষেই কাজ করেছে। এতে সাক্কুর নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া অনেকটাই সহজ হয়।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে ইয়াছিন গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজামুদ্দিন কায়সার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এতে সাক্কু শিবির অনেকটাই চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমার বিপক্ষে কে নির্বাচন করল সেটা আমার দেখার বিষয় নয়, নিজামুদ্দিন কায়সারকে আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না, নগরবাসী তথা আমার কর্মী-সমর্থকদের দাবির প্রেক্ষিতেই আমি ভোটে অংশগ্রহণ করছি, নগরবাসী আমার বিগত দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে আশা করি আমাকেই ফের তাদের নগরপিতা হিসাবে নির্বাচিত করবে বলে আমি আশাবাদী।

কুসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজামুদ্দিন কায়সার বলেন, আমি জানি ইভিএম একটি কারচুপির যন্ত্র, বিএনপি দলীয়ভাবে এ নির্বাচন বর্জন করেছে, আমি নিজেও বিএনপির এ সিদ্ধান্তকে নীতিগতভাবে সমর্থন করি, আমার দাবি ইভিএমে নয়, ব্যালটের মাধ্যমেই এ নির্বাচন করা হোক। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে সাক্কু বিজয়ী হয়ে সরকার দলের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মামলা-হামলা এবং হয়রানি করেছে, তাই দলীয় নেতাকর্মীদের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতেই আমি প্রার্থী হয়েছি। যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, আমার বিশ্বাস বিএনপির ভোটব্যাংকের সমর্থন নিয়ে আমি সফল হতে পারব।

প্রার্থী হলেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার সাক্কু

 হাবিবুর রহমান খান ঢাকা ও আবুল খায়ের, কুমিল্লা 
১৪ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওযার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ফলে আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ভোটে অংশ নিচ্ছে না দলটি। শুধু তাই নয়, বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু নির্বাচনে অংশ নিলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাক্কু।

ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছেন মনোনয়ন ফরম। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিলে তার ভাগ্য হতে পারে নারায়ণগঞ্জের তৈমুর আলম খন্দকারের মতোই।

তৈমুরও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় প্রথমে তার পদ স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয় দল থেকে।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেন না এমন অভিযোগে ইতোমধ্যে সাক্কুর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে সাক্কুর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজামুদ্দিন কায়সার। মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কায়সার। বিএনপির এ দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। উভয় প্রার্থীই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণ করছেন। শেষ পর্যন্ত এ দুজনই ভোটে থাকলে জয় পাওয়া সাক্কুর জন্য অনেকটা কঠিন হবে। তবে কায়সার ভোটে থাকলে তাকেও বহিষ্কার করা হতে পারে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ দল একটা শৃঙ্খলার মধ্যে চলে। কেউ তার ঊর্ধ্বে নয়। তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ভোটে অংশ নিলে নিশ্চয়ই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ও কুমিল্লার স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মনিরুল হক সাক্কু প্রকাশ্যে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাকে নিয়ে নানা সন্দেহ রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে তিনি নিজস্ব একটা বলয় তৈরি করেছেন। সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার সঙ্গে সাক্কুর সখ্য রয়েছে। গত সিটি নির্বাচনে তার পরোক্ষ সহযোগিতায় মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

মেয়র হওয়ার পর থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন সাক্কু। মেয়র হিসাবে শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা ছুয়ে সালাম করেন। এ নিয়ে ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দলীয় ফোরামে ব্যাপক সমালোচনা হয়। কিন্তু দলের সমালোচনাকে তেমন পাত্তা দেননি সাক্কু। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাতের নানা অভিযোগ রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিভাগের দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ছিল। কিন্তু ওইদিন বৈঠকে অংশ নেননি সাক্কু। সভায় যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে তাকে কেন্দ্র থেকে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ১৩ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

হাইকমান্ডের এমন কঠোর সিদ্ধান্তের পরও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হননি তিনি। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, এবারও বিএনপির ভোটব্যাংক ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের সহযোগিতায় পুনরায় মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। মেয়র নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

তবে সাক্কুর ঘনিষ্ঠরা জানান, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করবেন কিনা তা অনেকটা নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ওপর। সরকার দলের পক্ষ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত মনোনয়ন পাওয়ায় সাক্কু শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নাও নিতে পারেন। কারণ রিফাত ও সাক্কু আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার আস্থাভাজন। তাই রিফাত মনোনয়ন পাওয়ায় ওই নেতার নির্দেশেই ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন সাক্কু। শেষ পর্যন্ত যদিও নির্বাচন করেন তা হবে অনেকটা নিয়ম রক্ষার।

মেয়র সাক্কুর গলার কাঁটা কায়সার : কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজামুদ্দিন কায়সার। বিগত কুসিকের দুটি নির্বাচনে নিজ দলের পক্ষ থেকে বিরোধী কোনো প্রার্থী না থাকায় সাক্কু অনায়াসেই বিএনপির ভোটব্যাংক এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু আসছে কুসিকের তৃতীয় দফার নির্বাচনে সাক্কুর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এবার প্রার্থী হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিজামুদ্দিন কায়সার। এতে এবার নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া সাক্কুর জন্য অনেকটাই কঠিন হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানা যায়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দুটি ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন। আরেক অংশের কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে এ গ্রুপিং। বিগত কুসিক নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় ইয়াছিন গ্রুপ সাক্কুর পক্ষেই কাজ করেছে। এতে সাক্কুর নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া অনেকটাই সহজ হয়।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে ইয়াছিন গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজামুদ্দিন কায়সার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এতে সাক্কু শিবির অনেকটাই চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমার বিপক্ষে কে নির্বাচন করল সেটা আমার দেখার বিষয় নয়, নিজামুদ্দিন কায়সারকে আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না, নগরবাসী তথা আমার কর্মী-সমর্থকদের দাবির প্রেক্ষিতেই আমি ভোটে অংশগ্রহণ করছি, নগরবাসী আমার বিগত দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে আশা করি আমাকেই ফের তাদের নগরপিতা হিসাবে নির্বাচিত করবে বলে আমি আশাবাদী।

কুসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজামুদ্দিন কায়সার বলেন, আমি জানি ইভিএম একটি কারচুপির যন্ত্র, বিএনপি দলীয়ভাবে এ নির্বাচন বর্জন করেছে, আমি নিজেও বিএনপির এ সিদ্ধান্তকে নীতিগতভাবে সমর্থন করি, আমার দাবি ইভিএমে নয়, ব্যালটের মাধ্যমেই এ নির্বাচন করা হোক। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে সাক্কু বিজয়ী হয়ে সরকার দলের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মামলা-হামলা এবং হয়রানি করেছে, তাই দলীয় নেতাকর্মীদের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতেই আমি প্রার্থী হয়েছি। যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, আমার বিশ্বাস বিএনপির ভোটব্যাংকের সমর্থন নিয়ে আমি সফল হতে পারব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন